বাংলাদেশে হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার দাবিতে মুসলিম মেয়ের হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী মুসলিমরা একটি হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। 

এক্স-এ প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখতে পাওয়া মেয়েটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নয়। বরং, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ এলাকায় ধর্ষণের পর মুসলিম স্কুল ছাত্রীকে হত্যার ঘটনাকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ভিডিওটি রির্ভাস ইমেজ সার্চের মাধ্যমে বৈরাগী চলনবিল নামের একটি ফেসবুক আইডিতে গত ১৭ এপ্রিল প্রচারিত একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটির শিরোনামে থেকে জানা যায়, এটি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তার লাশ উদ্ধারের ভিডিও।

পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যে সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সংবাদ নামের একটি অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে ১৭ এপ্রিল লালমনিরহাটে ভুট্টা ক্ষেত থেকে শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সন্ধান পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি পর্যলোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবেদনটির ফিচার ইমেজে ব্যবহৃত লাশের ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওর লাশের মিল রয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিউয়নের শৈলমারীর চর এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয় নিহত ওই মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিবেদনটি প্রকাশিত মেয়ের ও তার পিতার নাম থেকে জানা যায় মেয়েটি মুসলিম।

সুতরাং, লালমনিরহাটের মুসলিম মেয়ে শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ভিডিওকে বাংলাদেশে কট্টরপন্থী মুসলিমদের দ্বারা হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: