মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিধসের দৃশ্য দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার 

প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে গত ২৮ জুন মিয়ানমারের একটি পরিত্যক্ত জেড পাথরের খনিতে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে মূল্যবান পাথর বা পাথরের অংশবিশেষের খোঁজ করছিলেন কয়েকজন মানুষ যাদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি এরই প্রেক্ষিতে কতিপয় গণমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘বেরিয়ে এলো মিয়ানমারের ভয়াবহ ভূ’মিধ’সে’র ভিডিও, শতাধিক নিখোঁজের দাবি’।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদন: রূপালী বাংলাদেশ (ইউটিউব), টাইমস টুডে (ফেসবুক)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি মিয়ানমারে সাম্প্রতিক ভূমিধসের ঘটনার দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি মিয়ানমারে ২০২০ সালের ২ জুলাইয়ে একটি জেড পাথরের খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনার দৃশ্যের।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এবিসি নিউজ’ এর ফেসবুক পেজে ২০২০ সালের ৩ জুলাইয়ে প্রচারিত একটি ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে এবিসি নিউজ এর পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, ‘একটি নাটকীয় ভিডিওতে মিয়ানমারের একটি জেড পাথরের খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের মুহূর্তটি দেখা গেছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’ (অনূদিত)

এছাড়াও, অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘স্কাই নিউজ’ এর ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে ২০২০ সালের ২ জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে একটি ভিডিওরও সংযুক্তি পাওয়া যায় যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মিয়ানমারে একটি জেড পাথরের খনিতে ভূমিধসের পর বর্জ্যের স্তূপের নিচে শ্রমিকেরা চাপা পড়ে অন্তত ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের কাচিন রাজ্যের জাদ সমৃদ্ধ ফাকান্ত (Hpakant) এলাকায় শ্রমিকেরা যখন পাথর সংগ্রহ করছিলেন, তখন বৃহস্পতিবার (২০২০ সালের ২ জুলাই) ভোরে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট কাদামাটির এক বিশাল ধস তাদের মাটির নিচে চাপা দেয়।…’ (অনূদিত)

সুতরাং, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক ভূমিধসের ঘটনার দৃশ্য দাবিতে মিয়ানমারে ২০২০ সালে জেড পাথরের খনিতে ভূমিধসের ঘটনার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: