ভূমিকম্পে গাজীপুরে গার্মেন্টস ভবন ধস কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, প্রচারিত ছবিগুলো মিয়ানমারের

২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভবন ধসে পড়েছে। এতে কয়েকশতজন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অনেক শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

গার্মেন্টস ধস ও শ্রমিকের মৃত্যুর দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
গার্মেন্টস ধসের দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি গাজীপুরের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ছবিটি গত মার্চ মাসে মিয়ানমারে সংঘটিত ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের দৃশ্যের।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে ভূমিকম্পে গাজীপুরের কোনো গার্মেন্টস ভবন ধসে পড়েছে কিনা এবং সেখানে কোনো প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নেয় রিউমর স্ক্যানার টিম।
বিডিনিউজ২৪ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পের সময় গাজীপুরে তাড়াহুড়া করে ভবন থেকে বের হতে গিয়ে অন্তত ৪০০ জন আহত হয়েছেন; যাদের অধিকাংশই শ্রমিক বলে জানিয়েছে প্রশাসন। প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড চাকুলিয়া এলাকায় চারতলা ভবন হেলে পড়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর প্রেসক্লাব ভবনেও ফাটল দেখা দিয়েছে।
এছাড়া, প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবারের ভূমিকম্পে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার ২৫২ জন শ্রমিক আহত হয়েছিলেন।
আহতদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রথম আলোতে শনিবার প্রকাশিত ফলোআপ প্রতিবেদনে গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, যাঁরা আহত হয়েছিলেন তাঁদের বেশির ভাগই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে যাঁরা হাসপাতালে আছেন, তাঁরাও শঙ্কামুক্ত।
উল্লেখিত প্রতিবেদন থেকে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে গাজীপুরে প্রায় ৪০০ জন আহতের খবর পাওয়া গেলেও কোনো গার্মেন্টস ভবন ফাটল কিংবা প্রাণহানির ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিশ্বস্ত সূত্রেও ভূমিকম্পে গাজীপুরে গার্মেন্টস ভবন ধস কিংবা প্রাণহানির দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ছবি যাচাই
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, গত ২৮ মার্চ জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওয়েবসাইটে ‘Quake death toll rises to 23 in Myanmar, Thailand’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কোলাজ ছবির সাদৃশ্য রয়েছে। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, গত মার্চ মাসে মিয়ানমারে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রতিবেদনে ছবির সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যম The Assam Tribune এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত কোলাজ ছবিতে থাকা দ্বিতীয় ছবিটি মিয়ানমারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে, গত ২৮ মার্চ মিয়ানমার ভিত্তিকসংবাদ সংস্থা Myanmar Now এর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের একাধিক ছবি সংবলিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়, যার একটি ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত কোলাজ ছবিতে থাকা প্রথম ছবির মিল রয়েছে।

মিয়ানমারের গত মার্চের ভূমিকম্প নিয়ে সেসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও (১, ২, ৩) আলোচিত কোলাজ ছবিটির সন্ধান মেলে।
সুতরাং, প্রচারিত ছবিগুলো ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে বাংলাদেশের কোনো স্থানে ধসে পড়া ভবনের নয়। এছাড়া, গাজীপুরের শ্রীপুরে গার্মেন্টস ধসে পড়া ও সেখানে শতাধিক লোকের প্রাণহানির দাবিগুলো মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo – গাজীপুরে ভূমিকম্পের সময় আহত ২৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি, বেশির ভাগ শ্রমিক
- Prothom Alo – গাজীপুরে ভূমিকম্পে আহতদের বেশির ভাগই বাসায় ফিরেছেন
- Bangladesh Pratidin – Quake death toll rises to 23 in Myanmar, Thailand
- Myanmar Now – X Post
- The Assam Tribune – Seven aftershocks hit NE after massive Myanmar earthquake; experts warn of more
- bdnews24.com – ভূমিকম্প: গাজীপুরে আহত ৪০০, ভবনে ফাটল, খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

