সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হয় যে, ‘ময়মনসিংহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৩’। উক্ত দাবির সমর্থনে পোস্টটির কমেন্ট সেকশনে একটি ব্লগস্পটভিত্তিক আর্টিকেলের লিংক সংযুক্ত করা হয়।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, গত ২৫ জানুয়ারি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং এতে অন্তত ১১ জন আহত হয় কিন্তু কেউ নিহত হয়নি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির কিছু পোস্টে একটি ব্লগপোস্টের লিংক সূত্র হিসেবে দেওয়া হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘jamunanews12.blogspot.com’ নামের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটটি একটি ভুঁইফোঁড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। সাইটে ‘ময়মনসিংহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৩’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর প্রকাশকাল ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
কথিত এই সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘ময়মনসিংহে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

উক্ত সংবাদে ময়মনসিংহে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের ভিডিও দাবিতে একটি ছবি যুক্ত করা হয়। ছবিতে থাকা লোগোর সূত্র ধরে যমুনা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ জানুয়ারি ‘লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর থাম্বনেলের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ওয়েবসাইটে গত ২৫ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের দুই পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়।
সেসময় এ বিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোও সংবাদ (১, ২, ৩) প্রচার করে।
উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।
সুতরাং, সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হওয়ার দাবিটি ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Jamuna Television – লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ
- The Daily Star Bangla – লালমনিরহাটে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১১
- Rumor Scanner’s analysis


