ময়মনসিংহে মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে অগ্নিসংযোগ দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনে পোড়া অবস্থার কয়েকটি ছবির কোলাজ প্রচার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দুর্বৃত্তরা মসজিদে আগুন দিয়েছে। অদ্যরাত ১টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার বারবাড়ীয়া মধ্যেপাড়া মসজিদে দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে আসবাবপত্র ও কোরআন শরিফ পুড়ে যায়। এর আগে ১২ তারিখেও পাশের আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছিল। এলাকাবাসী জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।’

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এছাড়াও, ‘ইজতিহাদ নিউজ’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালেও আলোচিত দাবি প্রচার করা হয়েছে৷ দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের একটি মসজিদে সম্প্রতি দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে প্রচারিত দাবি সঠিক নয়। কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবি প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এটি একটি দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘কালের কণ্ঠ’ এর ওয়েবসাইটে ‘গফরগাঁওয়ে মসজিদে অগ্নিকাণ্ড’ শিরোনামে গত ২৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে একটি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায় যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে সংযুক্ত ছবির মিল পাওয়া যায়।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একটি মসজিদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২২ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার বারবাড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গফরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেন।

এ বিষয়ে আরো একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়। তাতেও গফরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেনের বরাতে বলা হয়, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অনুসন্ধানে কোথাও দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে এরূপ দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, সম্প্রতি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক মসজিদে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঘটা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দুর্বৃত্তদের দ্বারা অগ্নিসংযোগ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: