নারায়ণগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার দাবিটি সঠিক নয়

সম্প্রতি, নারায়ণগঞ্জে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে উত্তেজিত জনতা হত্যা করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত হননি; তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম আরটিভির ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, গত ২২ মে রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে হীরা নামের এক তরুণকে স্থানীয় লোকজন মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরবর্তীতে একই ঘটনায় সোহেল নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

একই ঘটনায় সমকালের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সিকেও একই কথা বলতে শোনা যায়।

একাধিক গণমাধ্যমে উক্ত ঘটনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করতে দেখা গেলেও কোথাও অভিযুক্তের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুব আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, হীরা নামের ওই অভিযুক্তের মৃত্যুর দাবিটি সত্য নয়। গণপিটুনির পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুতরাং, নারায়ণগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: