ছাত্রলীগের নেতাকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নিয়ে কালের কণ্ঠের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি ‘ছাত্রলীগের নেতাকে ধরে পুলিশে না দিয়ে টাকার বিনিময়ে নেগোসিয়েশন করতে গিয়ে তিন শিবিরকর্মি গ্রেফতার’ শিরোনামে পুলিশের হাতে আটককৃত তিন ব্যক্তির ছবিসহ দৈনিক কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টগুলো দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ছাত্রলীগের নেতাকে ধরে পুলিশে না দিয়ে টাকার বিনিময়ে নেগোসিয়েশন করতে গিয়ে তিন শিবিরকর্মি গ্রেফতার’ শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং ফটোকার্ডে যুক্ত ছবিতে থাকা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরাও শিবির কর্মী নন। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কালের কণ্ঠের ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে দৈনিক আমার কালের কণ্ঠের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ১০ নভেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ছবি যাচাই
আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে গত ১০ নভেম্বর ‘চট্রগ্রামে অপহরণের পর চাঁদা আদায়, গ্রেফতার ৩’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডে ব্যবহারিত ছবির মিল পাওয়া যায়।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামে ওষুধ কম্পানিতে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল মাহমুদ নামে একজনকে অপরহণ করে চাঁদা আদায় করার অভিযোগে আশরাফুল আমিন, তারিক আসিফ ও শাহাদাত হোসেন তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপহরণ করে তাকে চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরা এলাকার একটা পরিত্যক্ত ভবনে আটক করে রেখে মারধর ও ২০ লাখ টাকা দাবিতে ভয় ভীতি দেখায়। এছাড়াও মানিব্যাগ থেকে এটিএম কার্ড নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ থেকে মোট ৬০ হাজার টাকা তুলে নেয় এবং পরে ফয়সালকে পরে অপহরণকারীরা চকবাজার প্যারেড মাঠে ফেলে যায়।
উক্ত প্রতিবেদনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ছাত্রশিবিরের কর্মী- এমন কোনো দাবি করা হয়নি।
এছাড়া, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা শিবির কর্মী এমন দাবির সপক্ষে অন্য গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রেও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতারাং, ‘ছাত্রলীগের নেতাকে ধরে পুলিশে না দিয়ে টাকার বিনিময়ে নেগোসিয়েশন করতে গিয়ে তিন শিবিরকর্মি গ্রেফতার’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Kaler Kantho – Facebook page
- Kaler Kantho – website
- Kaler Kantho – চট্রগ্রামে অপহরণের পর চাঁদা আদায়
- Kaler Kantho – Youtube
- Rumor Scanner’s Analysis

