বাংলাদেশের মাদ্রাসায় হিন্দুদের হামলার দাবিতে নেপালের ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসায় হামলা চালায় দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে আরও দাবি করা হয়, উক্ত হামলার প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার ছাত্ররা ছাদ থেকে ঢিল ছুড়ে প্রতিবাদ জানায়। তবে গণমাধ্যমগুলো মাদ্রাসায় এমন হামলার কোনো সংবাদ প্রচার করেনি বলেও পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, নেপালের ধানুষা জেলায় মসজিদে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার ভিডিওকে বাংলাদেশের মাদ্রাসায় হামলার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো মাদ্রাসায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় অনলাইন গণমাধ্যম The Tatva-এর এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে গত ৬ জানুয়ারি একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। এছাড়াও একই পোস্টে যুক্ত আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে ভাঙচুর করতে দেখা যায়। পোস্টটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, এটি নেপালের ধানুষা মসজিদে হামলা চালানোর ঘটনার ভিডিও। যার পরবর্তীতে দেশটিতে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে ভারত দেশটির সাথে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে বলেও পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়।

একই ছবি সংবলিত ভারতীয় আরেক গণমাধ্যমের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরেকটি পোস্টও পাওয়া যায়। পোস্টটি থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় দেশটির বীরগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়।

নেপালের এই ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম News18-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সন্ধান পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদনের ভবনের ছাদ থেকে ঢিল ছুড়ার ফুটেজটি দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি জানা যায়, দুই মুসলিম যুবকের হিন্দুদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে তৈরি করা একটি টিকটক ভিডিও থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। ভিডিওটির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে একদল হিন্দু জনতা ধনুষার একটি মসজিদে ভাঙচুর চালায়। এর পরবর্তীতে উভয় সম্প্রদায়ের বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বীরগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয় বলেও জানা যায়।

অর্থাৎ, নেপালের সাম্প্রতিক সহিংসতার ভিডিওকে বাংলাদেশে মাদ্রাসায় হিন্দুদের হামলার ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, নেপালের ভিডিওকে বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হামলার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: