সম্প্রতি, একটি সংবাদ পাঠিকার ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে– তিনি মারা গেছেন।

টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে থাকা নারী দেশটিভির সংবাদ পাঠিকা তোয়া আফরোজ। তার মৃত্যুর দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, মাছরাঙা টিভির এক সাংবাদিকের স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ পাঠের অডিওর সাথে তোয়ার সংবাদ উপস্থাপনের পুরোনো ভিডিও জুড়ে দিয়ে ভুয়া দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ভিডিওতে থাকা সংবাদ পাঠিকার সংবাদ পাঠের ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

ভিডিওটি থেকে জানা যায়, সেদিন সারাদেশে হওয়া ভূমিকম্পের সময় দেশ টিভির এই সংবাদ পাঠিকা সংবাদ পাঠ করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে উক্ত ভিডিওতে থাকা সংবাদ পাঠিকার বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, তার নাম তোয়া আফরোজ। তিনি দেশ টিভিতে কর্মরত একজন সংবাদ পাঠিকা। এছাড়া, তোয়া আফরোজের টিকটক অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটির ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এমনকি আলোচিত দাবিটি নিয়েও তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
এরপর উক্ত ভিডিওতে থাকা মৃত্যুর দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার। অনুসন্ধানে মাছরাঙা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে গত ২১ মার্চ প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাছরাঙা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার বদরুল আহসান বিপ্লবের সহধর্মিণী খুরশিদা পারভীন সুমি ইন্তেকাল করছেন। গত ২১ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের সদস্যরা জানায়, নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে প্রথমে তাকে মোহাম্মদপুরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার মৃত্যু হয়। রাতেই সুমির মরদেহ গ্রামের বাড়ি নওগাঁয় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
অর্থাৎ, নিউজ প্রেজেন্টার তোয়া আফরোজ এবং মারা যাওয়া ব্যক্তি এক নন।
এছাড়া, মাছরাঙা টেলিভিশনের ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত মারা যাওয়া ব্যক্তির ছবির সাথে তোয়া আফরোজের চেহারারও মিল নেই।
সুতরাং, ভিন্ন ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে সংবাদ পাঠিকা তোয়া আফরোজ মারা গেছেন; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Desh Tv- Video
- Toa Afroze- Facebook Account
- Toa Afroze- Tiktok Account
- Toa Afroze- Tiktok Post
- Maasranga Tv- Video Report
- Maasranga Tv- Facebook Post


