সাধারণ মানুষের ওপর জামায়াতের হামলা দাবিতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের ছবি প্রচার

সম্প্রতি ‘জামায়াতের মহিলা কর্মীদের কে ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার দিতে অস্বীকৃতি জানালে, জামায়াতের নেতা কর্মীরা এসে সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালায়।’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের এনআইডি কার্ডের নাম্বার দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতাকর্মী কর্তৃক সাধারণ মানুষের ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি৷ প্রকৃতপক্ষে, লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এনআইডি কার্ড দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে৷

উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি।

গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে উক্ত দাবিকে সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি৷

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে The Daily Campus এর ওয়েবসাইটে গত ১৬ জানুয়ারি ‘মহিলা জামায়াতের কোরআন তালিমে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যুবদলের হামলা’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডের ছবিটির মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দপুরের বটতলা মুন্সী বাড়িতে কোরআন তালিমের আয়োজন করে মহিলা জামায়াত। অনুষ্ঠান চলাকালে যুবদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। এ সময় উপস্থিত নারী কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় জামায়াতের পুরুষ কর্মীরা। তবে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হন তারা।

পরবর্তীতে, একই বিষয়ে গত ১৫ জানুয়ারি The Business Standard এর ওয়েবসাইটে ‘লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: আহত ১০, হাসপাতালে উত্তেজনা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উল্লিখিত এলাকার একটি বাড়িতে মহিলা জামায়াতের ‘তালিম’ চলাকালে সেখানে ভোট চাইতে যান সংশ্লিষ্টরা। এসময় বিএনপি নেতা বোরহান উদ্দিনের বাড়িতে ভোট চাওয়ার জন্য যান। এ সময় তারা সেখানে ভোটার আইডি কার্ড চান। এটি কেন প্রয়োজন, এ নিয়ে বিএনপি কর্মী রাসেল ভূঁইয়া ও জামায়াতের যুব নেতা আব্দুর রহমানের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। চরম বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের বেশ ক’জন আহত হয়।

এ বিষয়ে ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে ‘নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১০’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে এ বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সুতরাং, লক্ষ্মীপুর সদরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এনআইডি কার্ড দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনাকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের ওপর হামলা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: