নেইমারের কাছে নরওয়ের গোলরক্ষকের ক্ষমা চাওয়ার খবরটি ভুয়া

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ে-ব্রাজিল ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। পেনাল্টি নেওয়ার আগে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড নেইমারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। গোল করার পর নেইমার পাল্টা উসকানি দিলে দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিল্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিল ও নেইমারকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এবং নেইমারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দাবিতে একটি তথ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এক পোস্টে নিল্যান্ড লিখেছেন, “আমি কখনোই সেই ম্যাচটি ভুলব না। ব্রাজিল ছিল আমাদের বিপক্ষে খেলা অন্যতম সেরা দল। নেইমার এখনো আমার কাছে একজন কিংবদন্তি। আশা করি, তিনি আমাকে ক্ষমা করবেন।”

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত দাবি দেখুন: চ্যানেল২৪, যুগান্তর, বাংলানিউজ২৪, দেশ টিভি, বাংলাদেশ টাইমস, আমার সংবাদ, প্রবাসীর দিগন্ত, রূপালী বাংলাদেশ , দ্য নিউজ, এনপিবি নিউজ, মাছরাঙা টিভি (ফেসবুক), কালবেলা (ফেসবুক), ডিবিসি নিউজ

একই দাবিতে সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক।        

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড ব্রাজিল ও নেইমারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো পোস্ট দেননি। প্রকৃতপক্ষে, নিল্যান্ডের নামে পরিচালিত একটি ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছিল। পরে নিজের আসল অ্যাকাউন্ট থেকে নিল্যান্ড নিশ্চিত করেন, আলোচিত অ্যাকাউন্টটি তার নয়। পাশাপাশি তিনি অ্যাকাউন্টটি রিপোর্ট করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ (, , ) করে দেখা যায়, ‘nylandofficial’ ইউজারনেমের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত পোস্টের স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

ইউজারনেমটির সূত্র ধরে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে সেখানে আলোচিত ক্যাপশনসংবলিত কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি। দাবিটির সঙ্গে প্রচারিত স্ক্রিনশটে ব্যবহৃত একই ছবির একটি পোস্ট অ্যাকাউন্টটিতে পাওয়া যায়, যাতে ১৩ লাখের বেশি লাইক রয়েছে। তবে পোস্টটিতে আলোচিত ক্যাপশনটি নেই। অন্যদিকে মন্তব্যঘরে অনেক ব্যবহারকারীকে নেইমারের কাছে কথিত ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্তব্য করতে দেখা যায়।

এ থেকে প্রতীয়মান হয়, বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর পোস্টটির ক্যাপশন পরিবর্তন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইনস্টাগ্রামে কোনো পোস্টের ক্যাপশন সম্পাদনা করা হলে এর আগের সংস্করণ প্রকাশ্যে দেখা যায় না।

পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টটির তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটি ২০১৯ সালে খোলা হয়েছে এবং এরপর আটবার এর ইউজারনেম পরিবর্তন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে নরওয়ের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (, ) পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান হস্কিয়োল্ড নিল্যান্ডের পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হাজারো মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। এমনকি নেইমারও ওই অ্যাকাউন্টের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান। প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার অনুসারী ও ভেরিফায়েড ব্যাজ থাকা অ্যাকাউন্টটি নিল্যান্ডের নামে আবেগঘন বার্তা এবং নেইমারের কাছে কথিত ক্ষমা প্রার্থনার পোস্ট প্রকাশ করে। পরে নিল্যান্ড নিজের আসল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানান, ওই প্রোফাইলটি তার নয় এবং সবাইকে সেটি রিপোর্ট করার আহ্বান জানান।

প্রতিবেদনগুলোতে নিল্যান্ডের আসল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত স্টোরির একটি স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়। ওই স্ক্রিনশটের সূত্র ধরে তার আসল অ্যাকাউন্টটি শনাক্ত করা যায়। ইনস্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি ২০১৩ সালে খোলা এবং ২০১৫ সালে ভেরিফায়েড হয়। নরওয়ের ফুটবলার আর্লিং হালান্ডসহ তার একাধিক জাতীয় দলের সতীর্থও অ্যাকাউন্টটি অনুসরণ করেন।

সুতরাং, নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড নেইমারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: