বৈরী আবহাওয়ায় গত ১৩ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এরই প্রেক্ষিতে আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তির গলা চেপে ধরার ভিডিও ও স্থির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীকে গলা চেপে ধরেছে ছাত্রদল নেতা।
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন মাহিয়া মাহি, নুরুল আজিম রনি, Bangladesh Insiders, ইসলামিক ছাত্র শিবির, Nucleus 71।
একই দাবির ভিডিও দেখুন ইউটিউবে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রদল নেতার সাধারণ শিক্ষার্থীকে গলা চেপে ধরার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, ছবি/ভিডিওতে থাকা দুইজন ব্যক্তিই ছিলেন ছাত্রদলের।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমানের একটি পোস্ট নজরে আসে রিউমর স্ক্যানারের। তিনি পোস্টে দাবি করেন, ‘আন্দোলনে আসা একজন শিক্ষার্থীর কথার উত্তর ছাত্রদলের একজন কর্মী দিতে গেলে কেন্দ্রীয় সংসদের একজন নেতা অধীনস্থ ইউনিটের ওই কর্মীকে শিক্ষার্থীদের সাথে তর্কে যাতে না জড়ায় সেজন্য নিবৃত্ত করতে তাৎক্ষণিকভাবে কাজটি করেছেন।’
আরো অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক আগামীর সময় এর সাংবাদিক আমজাদ হোসেন হৃদয় এর এক ফেসবুক পোস্ট সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে যাওয়ায় নিজের কর্মীকে শাসিয়ে থামিয়ে দিচ্ছেন মুহসীন হল ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুক মামুন।
এসব তথ্যের সূত্রে অনুসন্ধানে মোহাম্মদ ওমর ফারুক মামুনের ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে বের করে রিউমর স্ক্যানার৷ প্রোফাইলেও হৃদয়ের পোস্টটি শেয়ার করেন তিনি। কমেন্টে তিনি ‘Daily Ghotona’ নামের একটি ফেসবুক পেজের একই ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও পোস্ট করেন। এই ভিডিও থেকে জানা যায়, ভিডিওটি ছাত্রদলের একাংশকে সিনিয়রদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণের দৃশ্য।

অনুসন্ধানে Mahin Ahmed Shujon নামের একটি প্রোফাইলে এই ঘটনার বিষয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে তিনি জানান, যাকে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেই ব্যক্তি তিনিই। তার প্রোফাইল এবং পরবর্তীতে ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, তিনি ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক। প্রোফাইলে থাকা তার ছবির সাথে আলোচিত ছবি-ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির চেহারায় মিল পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার৷

সুতরাং, ছাত্রদল নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীকে গলা চেপে ধরেছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Mahin Ahmed Shujon: Facebook Post


