সম্প্রতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মারা গেছেন শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্যটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনোপ্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই উক্ত তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যু হলে এ বিষয়ে জাতীয়-আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে সংবাদ প্রচারিত হতো। কিন্তু গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবিতে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
বরং, বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েবসাইটে গত ০৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হয়ে কলকাতার একটি হাসপাতালে দুদিন ভর্তি থাকার পরে গত ০৫ জানুয়ারি ছাড়া পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা পৃথকভাবে এই খবর বিবিসি বাংলার কাছে নিশ্চিত করেছেন।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “মি. কাদের তো এমনিতেই বার্ধক্যজনিত কারণে কিছুটা অসুস্থ। তার ওপরে এবারে শীতও বেশ ভালই পড়েছে। তার নিয়মিত চিকিৎসাও চলে। হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল, মূলত কিছু রুটিন চেক আপের জন্য। তবে সোমবার তিনি ছাড়া পেয়েছেন। এখন বাংলাদেশের অনেক গণমাধ্যমে দেখছি যে তিনি নাকি ভেন্টিলেটারে ইত্যাদি সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। এসবই গুজব।” তবে কলকাতার কোন হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হল, সেটা আওয়ামী লীগের কোনও নেতাই বলতে চাননি।
পরবর্তীতে, একই দিনে এ বিষয়ে বিডিনিউজ২৪-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
এছাড়া, ওবায়দুল কাদেরের ভাই, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার ফেসবুক পেজে ০৫ ও ০৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একাধিক পোস্ট (১, ২) থেকে জানা যায়, ওবায়দুল কাদের হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন এবং তিনি সুস্থ আছেন।
সুতরাং, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যু সংক্রান্ত প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- BBC News বাংলা – হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ওবায়দুল কাদের
- bdnews24 – কলকাতার হাসপাতালে দুদিন কাটিয়ে বাসায় ফিরেছেন ওবায়দুল কাদের
- Abdul Kader Mirza – Facebook Post 12


