ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার ও পিটার হাসের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির গুজব

সম্প্রতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হয়েছেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হয়েছে।

ইউটিউবে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হননি এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, অধিক ভিউ পাওয়ার আশায় চটকদার থাম্বনেইল এবং শিরোনাম ব্যবহার করে ভিন্ন ঘটনার একাধিক ভিডিও যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে৷

অনুসন্ধানের শুরতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যলোচনা করে রিউমর স্ক্যানার টিম। এতে ভিডিওটির শুরুতে এর উপস্থাপককে ‘এবার শেখ হাসিনার সামনে যমদূত হিসেবে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। পিটার হাসের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পদত্যাগ হবে। আর তার পদত্যাগের পর আবারও গণতান্ত্রিক ধারায় বিএনপির অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে বিএনপি এমনটাই আশা করছে আমেরিকা। সেই সাথে দেখতে পারবেন এবার ওবায়দুল কাদেরকে গ্রেফতার করার জন্যে ড. আসিফ নজরুলের কঠিন হুমকি। কেন ওবায়দুল কাদেরকে গ্রেফতার হচ্ছে না তা থাকবে বিস্তারিত।’ শীর্ষক মন্তব্য করতে শোনা যায়। এর পরবর্তীতে ভিডিওটি না টেনে দেখার অনুরোধ জানিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের একটি ভিডিও এবং অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের একটি টকশো-র ভিডিও দেখানো হয়।

ভিডিও যাচাই ১

আলোচিত ভিডিওর শুরুতে দেখানো অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের ভিডিওটি অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে Saqeeb’s Opinion নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে সরকারের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামলেন পিটার হাস? Saqeeb’s Opinion। শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটি পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওতে দেখানো অ্যাক্টিভিস্টের ভিডিওটির সাথে এটির হুবহু মিল রয়েছে। তবে আলোচিত ভিডিওটিতে মূল ভিডিওর মিরর ভার্সন দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও জানা যায়, ভিডিওটি মূলত সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের লেখা একটি কলামকে নিয়ে তৈরি। যেখানে সাকিব আনোয়ার নামের উক্ত অনলাইন অ্যাক্টিভেস্ট কলামটি বিষয়ে তার মতামত জানান। যার সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

ভিডিও যাচাই ২

আলোচিত ভিডিওতে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের টকশোর ভিডিওটি অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে চ্যানেল আই-র জনপ্রিয় টকশো তৃতীয় মাত্রা-এর ইউটিউচ চ্যানেলে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর গণতন্ত্রের সমর্থনে বৈশ্বিক চাপ বাড়ছে | অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল |অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান|Episode 7396 শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি টকশোর ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওটি পর্যলোচনার মাধ্যমে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওতে দেখানো টকশোর ভিডিওর সাথে এটির হুবহু মিল রয়েছে। ভিডিওটির ক্ষেত্রেও পূর্বের ফুটেজের ন্যায় ভিডিওর মিরর ভার্সন দেখানো হয়েছে।

পাশাপাশি জানা যায়, উক্ত টকশোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। টকশোতে তারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৈশ্বিক চাপ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত বিএনপির মহাসমাবেশ নিয়েও আলোচনা করেন। যার সাথেও আলোচিত দাবিগুলোর কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই।

পরবর্তীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রেফতার হওয়া এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে প্রচারিত তথ্যটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমেও গণমাধ্যম কিংবা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মূলত, গত ১৫ মার্চ জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশের সামনে যে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক শিরোনামে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের লেখা একটি কলাম প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত কলাম বিষয়ে সাকিব আনোয়ার নামের এক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট তার ইউটিউব চ্যানেলে একটি মন্তব্যধর্মী ভিডিও প্রচার করেন। যার কিছু অংশের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের একটি টকশোর কিছু অংশ যুক্ত করে একটি ভিডিও তৈরি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হয়েছেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে শীর্ষক একটি তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরর গ্রেফতার হওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সুতরাং, ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হয়েছেন এবং পিটার হাসের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র

Share: