ব্যাংককের পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদেশে ভূমিকম্পে ভবন ধসের দৃশ্য দাবিতে প্রচার


২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এরই প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ভবন ধসে পড়ার এই দৃশ্যটি এই ভূমিকম্পের। 

উক্ত দাবিতে প্রচারিত টিকটক ভিডিও দেখুন এখানে। ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার বার।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং, চলতি বছরের মার্চে মায়ানমারে ভূমিকম্পে পাশের দেশ থাইল্যান্ডে অনুভূত কম্পনে ভবন ধসের দৃশ্যকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওতে মূল ধারার গণমাধ্যম আরটিভির লোগো থাকার সূত্রে গণমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৮ মার্চ প্রচারিত একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির বর্ণনায় ভূমিকম্পে বহুতল ভবন ধসে পড়ার তথ্য দেওয়া হলেও ঘটনাটি কোন স্থানের তা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে এটা নিশ্চিত যে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির ওয়েবসাইটেও একই ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে।

বিবিসি জানায়, ২৮ মার্চ মায়ানমারে ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং এরপর একটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। চাতুচাক এলাকায় শ্রমিকদের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। ব্যাংককে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ধসের দৃশ্য এটি।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সে সময় প্রতিবেশী থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, চীন ও ভারতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ১ হাজার ২০ কিলোমিটার দূরের ব্যাংককেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।

সুতরাং, মার্চে মায়ানমারে ভূমিকম্পে পাশের দেশ থাইল্যান্ডে অনুভূত কম্পনে ভবন ধসের দৃশ্যকে ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সময়ের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র 

Share: