গাজীপুরে ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িতে হামলা দাবিতে ছড়ানো হলো কক্সবাজারের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও

গাজীপুরে মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মীরা এক ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িতে গিয়ে আক্রমণ চালানোর দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একটি খোলা মাঠে এক বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করতে দেখা যায়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি গাজীপুরে মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মীদের কোনো ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িতে আক্রমণ চালানোর ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২০ সালে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের দৃশ্য। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা আনছুর আলম, যাকে পরে সংগঠনটি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ২০২০ সালের ৩ জুন ‘Hasnain Ahmed Howlader’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, এটি কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাওনা টাকা চাওয়ার ‘অপরাধে’ এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের দৃশ্য।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে ২০২০ সালের ৩ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়ার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে ৭১ বছর বয়সী নুরুল আলমকে খোলা মাঠে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সে বছরের ২৪ মে ঈদের কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলমের অনুসারীরা নুরুল আলমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি খোলা মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রাথমিকভাবে তিনজনকে আটক করেছিল পুলিশ।

২০২০ সালের ১০ জুন রাইজিংবিডিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলমকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভুক্তভোগীর ছেলে আশরাফ হোসাইনের করা মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এর আগে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের সাইটমারা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আনছুর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, ভিডিও দেখে ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল। ঘটনার পর আনছুর আলমকে যুবলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই মাছরাঙা টিভির ফেসবুক পেজে ‘গাজীপুরে মিছিলের ভিডিও ভাইরালের পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীদের বাড়ি বাড়ি খুঁজছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। তবে আলোচিত ভিডিওটির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

সুতরাং, ২০২০ সালে কক্সবাজারে সাবেক যুবলীগ নেতা কর্তৃক এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের ভিডিও গাজীপুরে বিএনপির কর্মীরা এক ছাত্রলীগ কর্মীর বাড়িতে গিয়ে আক্রমণ চালানোর দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: