গাজার পুরোনো খাদ্য সংকটের ভিডিও ইরানের দাবিতে প্রচার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ‘ইরানের ক্ষতিগ্রস্থ মা ও শিশুরা একটুখানি খাবারের জন্য কি সংগ্রাম করছে দেখলেই কষ্ট হয়, আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন’ দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি ২০২৬ সালের ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে খাদ্যসংকটের দৃশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২৪ সালের মার্চে গাজা-ইসরায়েল সংঘাতের সময়ের খাদ্য সংকটের ভিডিও।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় গণমাধ্যম বাংলাভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৭ মার্চ প্রকাশিত ‘আটা-ময়দার দাম জীবনের চেয়ে বেশি! দুর্ভিক্ষের কবলে গাজা’ শিরোনামের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিও থেকে জানা যায়, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় আটা-ময়দার অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্য ও ত্রাণ গাজায় পৌঁছানো ক্রমাগত প্রতিবন্ধকতা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা যায়। উক্ত ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্যের মিল পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ৭ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ দৃশ্য যুক্ত করে বলা হয়েছে, মানবিক সংস্থা রিফিউজি ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ-সদৃশ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের প্রভাবে মানবিক সহায়তা ব্যাহত হয় এবং ত্রাণ প্রবেশে বাধার কারণে খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসার তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়।

সুতরাং, ২০২৪ সালের গাজায় খাদ্য সংকটের ভিডিওকে ২০২৬ সালে ইরানের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: