টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের বিমান হামলা দাবিতে ভিন্ন স্থানের পুরোনো বিস্ফোরণের ভিডিও প্রচার 

গত ০১ জুলাই বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা চালিয়েছিল দেশটির সেনাবাহিনী। এরই প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের বিমান হামলার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও গণমাধ্যম সহ ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

উক্ত দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট দেখুন-  দৈনিক ইনকিলাব, আগামীর সময়, বাংলানিউজ২৪, দৈনিক পূর্বকোণ, টেবিল টক ইউকে, দৈনিক সকাল, নাগরিক টিভি, বাংলাদেশ প্রতিদিন (ইউটিউব), কুমিল্লা জার্নাল, দৈনিক আজাদী, ঢাকা টুডে, নয়া শতাব্দী, অন্যধারা, নিউজ ভিশন, মোহনা টিভি (ইনস্টাগ্রাম)। 

সংবাদভিত্তিক ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তের নয়, এটি এমনকি বিমান হামলার দৃশ্যও নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ২০ এপ্রিল মিয়ানমারের হোমালিন শহরের মিয়োমা মনাস্ট্রি নদী বন্দরে তেলবাহী ট্যাংকারে একটি অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার ভিডিও এটি।

অনুসন্ধানে ‘Bro Tin’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২১ এপ্রিল প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে বিস্তারিত কিছু লিখা না থাকলেও দাবি করা হয়েছে, এটি মিয়ানমারের তেলবাহী জাহাজের দৃশ্য। তারিখ হিসেবে ‘২০ এপ্রিল ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম WIC News এর ফেসবুক পেজে গত ২১ এপ্রিল প্রচারিত আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে থাকা এক দৃশ্যের সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

এই ভিডিওতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন বন্দরে একটি বিস্ফোরণে ১০টিরও বেশি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

উক্ত সূত্রগুলো ধরে অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Asia News Network এর ওয়েবসাইটে গত ২২ এপ্রিল “20 oil tankers catches fire at Myanmar Port” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মিয়ানমার ফায়ার সার্ভিস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে– গত ২০ এপ্রিল আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ০৬টার দিকে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন টাউনশিপের হোমালিন ওয়ার্ডের মিয়োমা মঠ ঘাটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনাদুলু এজেন্সির ওয়েবসাইটে গত ২১ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন জানা যায়, উক্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে মিয়ানমারের যে অঞ্চলটিতে এই অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সেই অঞ্চলটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কি না সেবিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম। অনুসন্ধানে গুগল লোকেশন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মিয়ানমারের ওই অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমানাই নেই।

সুতরাং, ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিওকে সম্প্রতি টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের বিমান হামলার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: