গাজীপুরে ধর্ষণের পর হত্যা করা শিশুর লাশ উদ্ধার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ঝিনাইদহের পুরোনো ঘটনার

সম্প্রতি, ‘গাজীপুর ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পরে হত্যা করে, বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সকালে এলাকাবাসী পুলিশকে খোঁজ দেয়,পরে পুলিশ এসে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে।
একই দাবির ভিডিও দেখুন ইনস্টাগ্রামে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি গাজীপুরের নয় এবং এটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনাও নয়। প্রকৃতপক্ষে, ঝিনাইদহে গত ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু তাবাসসুমকে হত্যা করা হয়। তার লাশ উদ্ধারের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ফেসবুকের কিছু প্রোফাইলে (এখানে, এখানে) গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ৪ বছরের শিশু তাবাসসুমকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয় এর আগের দিন। স্কুলের পেছনের সেপটিক ট্যাংকে মেলে তার নির্যাতিত রক্তাক্ত বস্তাবন্দি নিথর দেহ।

মূল ধারার গণমাধ্যম এনটিভির ওয়েবসাইটে ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তাবাসসুম খাতুন (৪) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার আব্দুল জব্বার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
যুগান্তরের ওয়েবসাইটে পরদিন প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূলত ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু তাবাসসুমকে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবু তাহেরকে আটক করেছে পুলিশ।
অর্থাৎ, ভিডিওটি গাজীপুরের নয়, বরং ঝিনাইদহের ভিন্ন ঘটনার।
সুতরাং, ঝিনাইদহের পুরোনো ঘটনার ভিডিওকে সম্প্রতি গাজীপুরে ধর্ষণের পর হত্যা করা শিশুর লাশ উদ্ধার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Azlan Shanto: Facebook Video
- NTV: নিখোঁজের একদিন পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

