তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর হাদি হত্যার বিচার চেয়ে করা বিক্ষোভে হামলার ঘটনা ঘটেনি, প্রচারিত ভিডিওটি পুরোনো

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘Enamul Hoq’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘তারেক জিয়া কি পাগল হয়ে গেছে নাকি’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিওটিতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, “হাদি ভাইয়ের বিচার… এরা কুত্তার মতো… আমাদেরকে পানি মারতাছে, বুলেট মারতেছে। একটা মানুষের ন্যায়-ইনসাফ চাইতেছি, দেখেন আমাদের সাথে কী করতাছে তারা। হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই রাজপথ ছাড়বো না ইনশাআল্লাহ।”

এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অর্থাৎ, আলোচিত পোস্টের মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপি সরকারের সময় হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার এই দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্টটি দেখুন: এখানে। ভিডিওটি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫ লাখ ৮৯ হাজারেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি গত ৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও, যখন দেশে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় ছিল।

ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রথমে ভিডিওতে থাকা যুবককে শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার। তার নাম মহিউদ্দিন নিলয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে, তার ফেসবুক প্রোফাইলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘অপ্রকাশিত ভিডিও…’ শিরোনামে একই ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা যায়। পোস্টের মন্তব্যঘরে তিনি জানান, ভিডিওটি ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারির। সেদিন ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে তারা যমুনা অভিমুখে সমবেত হয়ে ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি পালন করছিলেন। 

তার ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে আরও দেখা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডক্টর ইউনুস এর বাসভবন এর সামনে থেকে Live’ শিরোনামে একটি লাইভ সম্প্রচারও করেছেন তিনি।

৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। সেদিন ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

উল্লেখ্য, ৬ ফেব্রুয়ারি দেশের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিল ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। পরবর্তীতে ১৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়।

তাছাড়া বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর এমন কোনো হামলার ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের একটি ভিডিওকে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরের ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: