বৃদ্ধ মাকে নির্যাতনকারী নজরুল ইসলাম বিএনপির সাঁথিয়া উপজেলা সভাপতি নন

সম্প্রতি, ‘নিজ বৃদ্ধ মাকে নির্মম অত্যাচার করছেন সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী’ শীর্ষক তথ্যে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে দেখা যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় বৃদ্ধ মাকে নির্যাতনকারী নজরুল ইসলাম সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নন বরং, নজরুল ইসলাম একজন কৃষক এবং তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত নন বলে জানান স্থানীয় পুলিশ ও সাংবাদিক।

অনুসন্ধানে Osman Goni নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৩০ আগস্ট প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে, সাঁথিয়া উপজেলার হাঁপানিয়া রামচন্দ্রপুর গ্রামে মৃত আবুল হোসেনের পুত্র নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মিলে নজরুল ইসলামের মাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। সেই ঘটনার দৃশ্য এটি।

একই দাবিতে তখন একই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট হতে দেখা যায়। দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে গত ৩০ আগস্ট সংবাদ ভিত্তিক ওয়েবসাইট বাংলাখবর প্রতিদিন এ “বৃদ্ধা মা’কে অমানবিক নির্যাতন, ছেলে-বউ গ্রেফতার” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাঁপানিয়া রামচন্দ্রপুর গ্রামে ৮০ বছরের অসহায় বৃদ্ধা শাশুড়ীকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ৩১ আগস্ট “বৃদ্ধাকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, ছেলে-পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৫” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের হাঁপানিয়া রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক বৃদ্ধাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। উক্ত ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে গত ৩০ আগস্ট রাতে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে বৃদ্ধার ছেলে ও পুত্রবধূসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। বৃদ্ধার নাম কাঞ্চন খাতুন। গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন হলেন বৃদ্ধার ছেলে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সোনালী খাতুন, শ্যালক মনিরুজ্জামান, শ্যালিকা ফরিদা খাতুন ও মুরশিদা খাতুন।

একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছিল আর টিভিও

এরপর পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় বর্তমানে বিএনপির সভাপতির বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম।

অনুসন্ধানে গত বছরের ১৬ নভেম্বর প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে “সাঁথিয়ায় কমিটি ঘোষণার পর বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৪ নভেম্বর খাইরুন নাহার খানমকে আহ্বায়ক ও সালাহউদ্দিন খানকে সদস্যসচিব করে সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির ২৪ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা বিএনপি।

একই ঘটনায় বাংলা ট্রিবিউন এবং ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও একই তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও দেখা যায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে খায়রুন নাহার খানম এর নাম।

এমনকি গত ১২ অক্টোবর স্বতঃকণ্ঠ নামের পাবনার স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে খায়রুন নাহার খানমের নাম উল্লেখ থাকতে দেখা যায়।

অর্থাৎ, সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়কের নাম খায়রুন নাহার খানম, নজরুল ইসলাম নয়।

বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সাঁথিয়া থানা ও স্থানীয় সাংবাদিকের সাথে যোগাযোগ করেছে রিউমর স্ক্যানার। 

চ্যানেল২৪ এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি শাহিন রহমান বলেন, ‘আমার জানামতে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন।’

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘নজরুল ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। সে একজন কৃষক।’

সুতরাং, ‘নিজ বৃদ্ধ মাকে নির্মম অত্যাচার করছেন সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী’- শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: