বাংলাদেশে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে হেলে পড়া ভবনের ছবি দাবিতে ভিন্ন ভিন্ন দেশের পুরোনো ছবি প্রচার 

গত ২১ ডিসেম্বর সকাল ১০ টা ৩৮ মিনিটের দিকে সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত ও ছশ শতাধিক আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এরই প্রেক্ষিতে, ‘ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিল্ডিং ভেঙে পড়ার সংবাদ শোনা যাচ্ছে। সময় ১০ টা ৩৮ মিনিটে ঢাকায় বিরাট ভূমিকম্প সংঘটিত হয় তবে বিল্ডিং ভেঙে পড়ার সংবাদ এখনো পর্যন্ত কোন সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায়নি।’ শীর্ষক ক্যাপশনে পাঁচটি ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিগুলো বাংলাদেশের নয় বরং, ভিন্ন ভিন্ন দেশের পুরোনো ছবিকে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

প্রচারিত ছবিগুলো আলাদা আলাদাভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

ছবি যাচাই-১

ছবি সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান Alamy এর ওয়েবসাইটে একটি ছবি পাওয়া যায়। উক্ত ছবির সাথে আলোচিত ছবির হুবহু মিল রয়েছে।  

Alamy এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, এটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তুরস্কে হওয়া ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ছবি৷

ছবি যাচাই-২

অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকোষ ভিত্তিক শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট Britannica এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ছবি পাওয়া যায়। উক্ত ছবির সাথে আলোচিত ছবির হুবহু মিল রয়েছে। 

Britannica এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবিটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ছবিটি ১৯৯৫ সালে জাপানে হওয়া ভূমিকম্পের সময়কার।

এছাড়া, চীনের গণমাধ্যম Toutiao এর ওয়েবসাইটে ২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও উক্ত ছবিটি ১৯৯৫ সালে জাপানে হওয়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দাবিতে প্রকাশ হতে দেখা যায়।

ছবি যাচাই-৩

অনুসন্ধানে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে গত ০৭ এপ্রিল “ভূমিকম্পের পরে মিয়ানমারের মান্দালয়ে গোপনে গিয়ে যা দেখল বিবিসি” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে থাকা ছবির সাথে আলোচিত ছবির মিল রয়েছে। 

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি গত মার্চ মাসে মায়ানমারে হওয়া ভূমিকম্পে দেশটির মান্দালয় শহরে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ধারণকৃত।

ছবি যাচাই-৪

অনুসন্ধানে ইন্দোনেশিয়ার অনলাইন ভিত্তিক গণমাধ্যম Liputan6 এর ওয়েবসাইটে ২০১৯ সালে ‘BMKG: 2 Wilayah Diguncang Gempa Hari Ini 08 Oktober 2019’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে থাকা ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে। 

তবে, ছবিটির ক্যাপশনে কোনো সময় বা স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

অর্থাৎ, উক্ত ছবিটি অন্তত ছয় বছর আগে থেকেই ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে।

ছবি যাচাই-৫

ছবি সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান iStock এর ওয়েবসাইটে একটি ছবি পাওয়া যায়। উক্ত ছবির সাথে আলোচিত ছবির হুবহু মিল রয়েছে।

উক্ত ছবিটি ২০১৩ সালের ১৮ এপ্রিল iStock এর ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। তবে ছবিটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

অর্থাৎ, ছবিটি অন্তত এক যুগ আগে থেকেই ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে।

সুতরাং, ভিন্ন ভিন্ন দেশের পুরোনো ছবিকে গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে হওয়া ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ছবি দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: