সম্প্রতি, “বরিশালে ধানের জমিতে নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন বলছে ধর্ষণের পরে হত্যা করে, ফেলে দিয়ে গেছে লাশ দুর্বৃত্তরা” শিরোনামে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে।
একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত দাবিটি সত্য নয়। প্রচারিত ছবিটি বরিশালেরও কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২৪ সালে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনার ছবি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ময়মনসিংহভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক সবুজ-এ ২০২৪ সালের ৭ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিটির সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় হাজেরা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।

একই তারিখে আরটিভিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর থেকে হাজেরা খাতুনের স্বামী সোহেল মিয়া (৪০) পলাতক ছিলেন। পুলিশ জানায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নিয়মিত মারধরের অভিযোগ ছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করেছিল, হত্যাকাণ্ডে স্বামী জড়িত থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়।
সুতরাং, ২০২৪ সালে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনার ছবি সম্প্রতি বরিশালে ধর্ষণের পর এক নারীকে হত্যা করে তার লাশ ফেলে যাওয়ার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।


