শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতার সংঘর্ষের দিনের ছবি দাবিতে ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ছবি প্রচার 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর–৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি অনলাইনে অস্ত্র হাতে এক ব্যক্তির ছবি প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ছবিটি শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের সংঘর্ষের দিন রামদা হাতে ছবি।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের সংঘর্ষের দিনে (গত ২৮ জানুয়ারি) রামদা হাতে ছবি নয়। প্রকৃতপক্ষে ছবিটি অন্তত ২০২৪ সাল থেকেই অনলাইনে বিদ্যমান রয়েছে।

আলোচিত ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,বাংলাদেশ.(IH&CB)’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে ‘Prothom Basanta – প্রথম বসন্ত’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বরে প্রচারিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে ৭টি ছবির সংযুক্তি পাওয়া যায় এবং ক্যাপশনে ‘ইসলামে ডাকাতি ও লুটতরাজের কঠোর শাস্তি’ শিরোনামে হাদিস ও কোরআন শরীফের নানা উক্তি সংবলিত লেখা পাওয়া যায়। পোস্টের ১ম ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়াও, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণের আওয়ামীলীগ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও গত বছরের ডিসেম্বরে প্রচারিত একটি পোস্টে আলোচিত ছবির সংযুক্তি পাওয়া যায়।

অপরদিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম গত ২৮ জানুয়ারিতে হওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন।

তবে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি ঠিক কবে কার ও কোন প্রসঙ্গের তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ছবি শেরপুরে হওয়া সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনার সময়কার নয়।

সুতরাং, শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের সংঘর্ষের দিনে (গত ২৮ জানুয়ারি) রামদা হাতে ছবি দাবিতে অনলাইনে বিদ্যমান পুরোনো ছবি প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: