গত ৭ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের শেষদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মিশরের ম্যানেজার হোসাম হাসান দুই হাত ক্রস করে ‘এক্স’ বা ক্রস সাইন দেখান। কবজির উচ্চতায় দুই হাত ক্রস করে ‘এক্স’ চিহ্ন তৈরি করা ম্যাচ চলাকালে সম্ভাব্য বর্ণবাদী বা বৈষম্যমূলক আচরণ শনাক্তে ফিফা প্রবর্তিত একটি আনুষ্ঠানিক সংকেত। ২০২৪ সালে ফিফা এই ‘ক্রসড আর্মস’ সংকেত ফুটবল প্রোটোকলে যুক্ত করে। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংকেত দেওয়া হলে রেফারি তিন ধাপের অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তবে হোসাম হাসান ঠিক কোন অভিযোগে এই সংকেত ব্যবহার করেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি বা মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কেউই প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফিফাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ের পর মিশর জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি সংহতি জানিয়ে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল নিজেদের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে হোসাম হাসানের ‘No to Racism’ প্রতীক প্রদর্শনের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। একই দাবির সঙ্গে মরক্কোর ম্যানেজার মোহামেদ ওয়াহবি, গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু এবং অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির তিনটি ছবিও প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে তাদের একই ধরনের ‘এক্স’ বা ক্রস সাইনের ভঙ্গিতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে গণমধ্যমে প্রচারিত দাবি দেখুন: কালবেলা, আরটিভি, ডেল্টা টাইমস, টেবিল টক ইউকে।
একই দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মিশরের প্রতি সংহতি জানিয়ে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল নিজেদের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে এমন কোনো পোস্ট করেনি। এছাড়া, দাবিটির সঙ্গে প্রচারিত মরক্কো ফুটবল দলের একাধিক সদস্যের ছবিগুলোও সাম্প্রতিক নয়; এগুলো গত মার্চে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রি-ইভেন্ট অ্যাকসেস ডে-তে তোলা হয়েছিল।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে মিশরের ম্যানেজার হোসাম হাসানের ‘এক্স’ ভঙ্গির ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মরক্কোর ফুটবল সংশ্লিষ্ট ভেরিফায়েড দুটি এক্স অ্যাকাউন্ট, রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশন এবং মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলগুলোর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট, পর্যালোচনা করা হয়। তবে কোনো অ্যাকাউন্টেই হোসাম হাসানের ‘এক্স’ ভঙ্গির ছবি প্রকাশ বা মিশরের প্রতি সংহতি জানানোর এমন কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, প্রতিবেদনে যুক্ত মোহামেদ ওয়াহবি, ইয়াসিন বুনু ও আশরাফ হাকিমির ‘এক্স’ সাইন দেখানো ছবিগুলো যাচাই করে স্টক ফটো সংস্থা গেটি ইমেজেসের ওয়েবসাইটে একই ছবিগুলো (১,২,৩) পাওয়া যায়। সেখানে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ছবিগুলো গত ৩০ মার্চ ফ্রান্সের লেন্সে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রি-ইভেন্ট অ্যাকসেস ডে-তে তোলা।

সুতরাং, মিশরের প্রতি মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের সংহতি জানানোর দাবিতে মরক্কো দলের একাধিক সদস্যের গত মার্চের পুরোনো ছবি প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।


