তেল আবিবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ভিডিও প্রচার

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের মাটিতে পৌছালেও বিস্ফোরিত হয়নি। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা এটির কাছে পৌঁছানোর পর সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটে। শেষ পর্যন্ত দেখুন।”

প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি স্থানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থেকে পানি ছিটানো হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরই সেখানে হঠাৎ বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। অর্থাৎ ভিডিওটি দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের তেল আবিবে এসে পড়লেও প্রথমে বিস্ফোরিত হয়নি; পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সেটির ওপর পানি ছিটালে সেটি বিস্ফোরিত হয়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটির সঙ্গে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া একটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও।

ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ‘Alan Simmons’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ২৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটির প্রথম ১৭ সেকেন্ডের অংশের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, মেওউড, ক্যালিফোর্নিয়ায় ম্যাগনেসিয়াম বিস্ফোরণ।

এছাড়া ‘LACoFD Video Unit’ নামের আরেকটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১৪ জুন রাত ২টা ৩১ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ার মেওউড শহরের একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ইউনিটগুলো সাড়া দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের সহায়তা করতে ভেরনন ফায়ার ডিপার্টমেন্টও ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

এ বিষয়ে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই প্রকাশিত লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মেওউডে একটি স্ক্র্যাপ মেটাল রিসাইক্লিং কারখানায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে এবং একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের আগুনে পানি দিলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ কারণে প্রচলিত পদ্ধতিতে পানি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ধরনের শুকনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করতে হয়।

সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া পুরোনো একটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিওকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেল আবিবে এসে পড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: