ফেনীতে ছাত্রলীগ ও সমন্বয়কদের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার

গত ০৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারায় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। গত ০৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। উক্ত গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে সমন্বয়কের ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নানা শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে একাধিকবার সংঘর্ষ বাঁধে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। এসবেরই প্রেক্ষাপটে আজ (১৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি সংঘর্ষের ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে এবং ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “ফেনীতে ছাত্রলীগ V/S সমন্বয়ক T20 ম্যাচ চলছে | ছাত্রলীগ নামছে রাজপথ কাঁপছে | ফেনী জেলা ছাত্রলীগ,। অর্থাৎ দাবি করা হচ্ছে, আজ ১৬ নভেম্বরে ফেনীতে ছাত্রলীগের সাথে সমন্বয়কদের সংঘর্ষ হয়েছে। 

ছাত্রলীগ

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আজ (১৬ নভেম্বর) ফেনীতে ছাত্রলীগ ও সমন্বয়কদের সংঘর্ষের দৃশ্যের নয় বরং, প্রায় ৪ মাস পূর্বে গত জুলাইয়ে ফেনীতে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার দৃশ্যকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া আজ ফেনীতে এ ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির একাধিক কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে চলতি বছরের গত ১৭ জুলাইয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। “ফেনীতে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হা/মলা” শিরোনামে প্রকাশিত উক্ত ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

ভিডিওটিতে বলা হয়, ফেনীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর প্রতিটি গলিতে গলিতে হামলা চালাচ্ছে ছাত্রলীগ। “ফেনীতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশসহ আহত ২০” শিরোনামে একই দিনে ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটেও একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, “কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে ফেনীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলে হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (১৭ জুলাই ২০২৪) সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্থানীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করে। সেখানে আগে থেকে ওৎ-পেতে থাকা ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠি, হকিস্টিক, বাঁশ নিয়ে তাদের অতর্কিত হামলা করে।”

এছাড়াও, উক্ত সংঘর্ষের বিষয়ে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও একই দিনে সংবাদ প্রতিবেদন প্রচার হতে দেখা যায়।

পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আজ (১৬ নভেম্বর) ফেনীতে ছাত্রলীগ ও সমন্বয়কদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ সংঘটিত হওয়ার সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ফেনীতে জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাকে ফেনীতে আজ (১৬ নভেম্বর) ছাত্রলীগ ও সমন্বয়কদের মধ্যকার সংঘর্ষের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: