ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিতে ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করলো সন্ত্রাসীরা দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে থাকা নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী নন এবং উক্ত ভিডিওটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কিংবা ঢাকা বিভাগেরই নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সদরের ০৯ নং ওয়ার্ডের পূর্ব ঘোনারপাড়া এলাকায় এক নারীকে স্বামী ও শশুর বাড়ির কয়েকজন মারধর করেন। সেই ঘটনার ভিডিও এটি।

অনুসন্ধানে ‘Farjin Sultana’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।

উক্ত পোস্টটির মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একজন ‘কী হয়েছে?’ জানতে চেয়ে মন্তব্য করেছেন। সেখানে পোস্টকারী উক্ত মন্তব্যে প্রত্যুত্তরে বলেছেন, স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন আহত নারীকে মারধর করেছেন।

এছাড়া, ‘Farjin Sultana’ নামক ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি থেকে আরও দুইটি পোস্ট (, ) খুঁজে পাওয়া যায়। সেগুলোর একটিতে ওই আহত নারীর চারটি ছবি যুক্ত করে বলা হয়েছে, নারীটিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মারধর করেছেন এবং অপরটিতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত একটি পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন- যে দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে সেটি দুই নাম্বার অর্থাৎ, সঠিক নয়।

পূর্বেও উক্ত ভিডিওটি ভিন্ন আরেকটি দাবিতে প্রচার করা হলে তখন পোস্টকারী ফারজিন সুলতানার সাথে যোগাযোগ করেছিল রিউমর স্ক্যানার টিম। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি কক্সবাজার সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ঘোনার পাড়া (মইশখাইল্লা পাড়া নামে পরিচিত) এলাকায় ঘটে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীটি তার পাশের বাড়ির ছেলের স্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ তারিখ ভুক্তভোগী ওই নারীকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন মারধর করেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। মারধরের একপর্যায়ে নারীটি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি তার বাবার বাড়ি মহেশখালীতে চলে গেছেন বলে জানান পোস্টকারী। 

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, এটি মূলত পারিবারিক কলহের ঘটনা। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কারণ জড়িত নয়। ভুক্তভোগী নারী এনসিপির কোনো নেত্রীও নন।

পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, পারিবারিক কলহে মারধরের শিকার এক নারীর ভিডিও প্রচার করে ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা দাবি করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: