বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বিএনপি নেতা কর্তৃক এক নারীকে মারধরের ভিডিও দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভারতের

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘বিয়ে তে রাজি না হওয়ায়, বিএনপি নেতা এক নারীকে চুরির অপবাদ দিয়ে, উরাধুরা লাঠি দিয়ে পিটাচ্ছে’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বিএনপি নেতার এক নারীকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধরের ঘটনার দৃশ্যের নয় এবং বিএনপি নেতা কর্তৃক এমন কোনো মারধরের ঘটনাও ঘটেনি৷ প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি বাংলাদেশেরই নয়, এটি ২০২৪ সালের জুন মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধ সম্পর্ক’ থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে মারধরের দৃশ্যের।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ এর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ৩ জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে একটি স্ক্রিনশটেরও সংযুক্তি পাওয়া যায় যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া এলাকায় এক দম্পতিকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। ভিডিওতে বাঁশের লাঠি দিয়ে দম্পতিকে মারধর করতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে তাজমুল ওরফে ‘জেসিবি’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যিনি নিজেকে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নেতা বলে দাবি করেন। পুলিশের মতে, ওই দম্পতির মধ্যে ‘অবৈধ সম্পর্ক’ ছিল বলে অভিযোগ করা হয় এবং সে কারণেই একটি বেআইনি সালিশি আদালতের (ক্যাঙ্গারু কোর্ট) নির্দেশে তাদের বেত্রাঘাত করা হয়।
এ বিষয়ে সেসময়ে আরো একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে ভারতের এবং এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সুতরাং, ভারতের পুরোনো ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার করে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বিএনপি নেতার এক নারীকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধরের ঘটনার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- NDTV – Bengal Flogging Case: Man Seen Behind Key Accused Arrested By Police
- Times of India – NHRC notice to West Bengal govt, DGP over ‘public flogging’ of couple in Uttar Dinajpur district
- Rumor Scanner’s analysis

