ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জের ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, গত বছরের জুলাই মাসের 

সম্প্রতি, ‘ইনুস ওর পেটোয়া বাহিনী দিয়ে বর্তমান ঠাকুরগাঁও এর অবস্থা। এভাবে নির্মমভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশের লাঠি চার্জ।’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে।

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে 

ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, এমনকি ভিডিওটি ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে গ্রহণের পরেরও নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন গত বছরের ৩১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনকালে ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্যের।

অনুসন্ধানে ‘Moinuddin Talukder Himel’ নামক এক স্থানীয় সাংবাদিকের অ্যাকাউন্টে গত বছরের ৩১ জুলাই প্রচারিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। উক্ত পোস্টে থাকা ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয় ভিডিওটি ঠাকুরগাঁওয়ের। এছাড়া পুরো ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়কার কোটা বিরোধী স্লোগান গুলো দিচ্ছেন এবং বিক্ষোভ মিছিলের সামনের সারিয়ে থাকা ব্যানারেও একই তথ্য রয়েছে।

উক্ত সূত্রগুলো ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে অনলাইন ভিত্তিক গণমাধ্যম রাইজিং বিডি এর ওয়েবসাইটে গত বছরের ৩১ জুলাই “ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে থাকা ছবিটির সাথে আলোচিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

রাইজিং বিডির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছরের ৩১ জুলাই দুপুরের দিকে জেলা শহরের আর্ট গ্যালারি এলাকার একাত্তরের অপরাজয় চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জ করেছিল পুলিশ।

একই বিষয়ে মূলধারার গণমাধ্যম ইত্তেফাক এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছরের ৩১ জুলাই সকাল ১১টা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের জন্য জেলা শহরের আর্ট গ্যালারি এলাকার একাত্তরের অপরাজয় চত্বরে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখানে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে বেলা ১২টার দিকে তা ভেঙে মিছিল নিয়ে শহরের চৌরাস্তার আদালত চত্বরের দিকে যায় আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের বাধা দিতে আদালতের মূল ফটকের সামনের সড়কে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা আদালত চত্বরে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন গত বছরের ০৮ আগস্ট। যা উক্ত ঘটনার অন্তত ৯ দিন পর।

বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সাংবাদিক মহিউদ্দিন তালুকদার হিমেলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘ভিডিওটি ২০২৪ সালের ৩১ জুলাইয়ের। ছাত্ররা তাদের কর্মসূচী অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও আর্ট গ্যালারী থেকে একটি মিছিল নিয়ে কোর্ট চত্বরে প্রবেশ করার সময় পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিপেটা করে।’

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়।

পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের কোনো তথ্য গণমাধ্যম ও বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, গত বছরের ৩১ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিওকে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: