নওগাঁয় ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা দাবিতে কুমিল্লার পুরোনো ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি, ‘এবার নওগাঁয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পরে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে, সেফটিক ট‍্যাংকের ভিতরে ফেলে দিয়েছে!! সোনার বাংলাদেশ আজ গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিচ্ছে।।’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি নওগাঁর কিংবা সাম্প্রতিক সময়েরও নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত জানুয়ারিতে কুমিল্লায় এক শিশুকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনার পর তার লাশ সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়৷ উক্ত সময়ের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Krishnapur Legend Club, Muradnagar, Comilla’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোচাগড়া গ্রামের পিপিয়া পাড়ায় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুর লা/শ উদ্ধার করা হয়েছে।

জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৬ জানুয়ারি সকালে রাসেল মিয়া নামে এক যুবক ৬ বছরের এক শিশুকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। পরে শিশুটির চিৎকার থামাতে একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যা করা হয়। তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাড়ির পাশেই পরিত্যক্ত একটি সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লাশ ফেলে দেওয়া হয়।

যুগান্তর জানায়, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় রাসেলও তাদের সঙ্গে শিশুটিকে খুঁজতে থাকে এবং এলাকায় মাইকিং করার পরামর্শ দেয়। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

অর্থাৎ, ভিডিওটি নওগাঁর নয়, বরং কুমিল্লার পুরোনো ঘটনার।

সুতরাং, কুমিল্লার পুরোনো ঘটনার ভিডিওকে ‘এবার নওগাঁয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পরে হাত-পা বেঁধে হত্যা’ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: