আহত ইরানি শিশুদের দাবিতে গাজার শিশুদের ভিডিও প্রচার

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহত দুই শিশুর একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওতে চলমান সংঘাতে আহত ইরানি শিশুদের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে ফেসবুকে সবচেয়ে ভাইরাল পোস্টটি এককভাবে ২ লক্ষ ৮০ হাজারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে এবং ১৪ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আহত ইরানি শিশুদের দৃশ্যের নয় বরং, গাজার আহত শিশুদের পুরোনো ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে আরবি সংবাদমাধ্যম ‘আশর্ক নিউজ’ এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

ভিডিওর বিষয়ে পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, ‘”আমার মা আর বাবা কোথায়?”.. গাজা উপত্যকার একটি হাসপাতালে ফিলিস্তিনি এক শিশু কান্নায় ভেঙে পড়ে তার বাবা-মায়ের কথা জিজ্ঞেস করছে। গাজা শহরের পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের একটি ক্যাফেতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর, সে এবং তার ছোট ভাইকে ধ্বংসস্তূপের ধুলোয় মাখা এবং আহত অবস্থায় সেখানে আনা হয়। ক্যাফেটিতে পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল।’ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনূদিত)।

এছাড়াও, অনুসন্ধানে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নীতি বিষয়ক অনলাইন সংবাদ ও বিশ্লেষণ প্রকাশনা প্ল্যাটফর্ম ‘হেলথ পলিসি ওয়াচ’ এর ওয়েবসাইটে গত বছরের ৬ অক্টোবরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের এক পর্যায়ে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত শিশুদের দৃশ্যের সংযুক্তি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গাজা শহরে ইসরায়েলি হামলার পর শিফা হাসপাতালে বোনের পাশে বসে এক আহত শিশু তার মায়ের জন্য কাঁদছে। এই হামলাটি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছিলেন।’ (অনূদিত)

এছাড়াও, আরো একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত ভিডিওটি গাজার শিশু দাবিতে গতবছর প্রচারিত হতে দেখা যায়।

অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি ইরানের নয় বরং, গাজার।

সুতরাং, ফিলিস্তিনের গাজায় আহত শিশুদের পুরোনো ভিডিওকে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আহত ইরানি শিশুদের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: