বিএনপির খাল খনন কর্মসূচির দৃশ্য দাবিতে নির্বাচনের আগের ভিডিও প্রচার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি অনলাইনে খাল/নদী খননের একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওটি নির্বাচনের পর সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানের পূর্বপ্রতিশ্রুত খাল খনন কর্মসূচির দৃশ্যের।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত সবচেয়ে ভাইরাল ফেসবুক পোস্টটি এককভাবে সাড়ে ৭ লক্ষেরও অধিক বার দেখা হয়েছে, ৩০ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং প্রায় ২ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এছাড়াও, একই দাবিতে একই স্থানের ভিন্ন আরেকটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রচার করা হয়েছে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিও নির্বাচনে জয়ের পর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা বিএনপির পূর্বপ্রতিশ্রুত খাল খনন কর্মসূচির দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে প্রচারিত ভিডিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে যশোরের হরিহর নদী খননের দৃশ্যের।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘কৃষি সম্ভাবনা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ৬ ফেব্রুয়ারিতে ‘কৃষক নদী খননের আনন্দে গান গাইছে’ ক্যাপশনে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের ও অডিওর মিল পাওয়া যায়। ভিডিওতে গানে গানে বলা হয়, এটি হরিয়ার/হরিহর নদী।

এছাড়াও, অনুসন্ধানে একই পেজ থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারিতে প্রচারিত আরেকটি ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ভিডিওতে বলা হয়, এই নদী দুই মাস যাবত খনন করা হচ্ছে।

এছাড়াও, ‘কৃষি সম্ভাবনা’ নামক একই ফেসবুক পেজ থেকে উক্ত নদী খননের আরো নানা ভিডিও গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচার হতে দেখা যায়। তাছাড়া, হরিহর নামে উক্ত নদ খননের আরো একাধিক ভিডিও নির্বাচনের আগের আরো নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে/পেজেও প্রচার হতে দেখা যায়।

অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ গত ১৭ ফেব্রুয়ারিতে শপথ নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, যশোর অঞ্চলের হরিহর নদ সে এলাকার প্রাচীন একটি নদ যা অবৈধ দখলের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছিল। যশোর ও খুলনার ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে গতবছরের ২২ সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পাঁচটি নদী পুনঃখনন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ প্রকল্পের আওতায় যশোর ও খুলনা এলাকার হরিহর নদীর ৩৫ কিলোমিটার অংশও পুনঃখনন করা হবে।

সুতরাং, নির্বাচনে জেতার পর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা বিএনপির পূর্বপ্রতিশ্রুত খাল খনন কর্মসূচির দৃশ্য দাবিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগের পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: