জামায়াত-শিবিরের লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি দাবিতে গত নভেম্বরের ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি লাঠিসোঁটা/স্ট্যাম্প বহনের একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘জামাত শিবিরের নির্বাচনীয় প্রস্তুতি প্রকাশে লাঠি সোটা গোপনে আরো অনেক কিছু থাকতে পারে’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে গতবছরের নভেম্বরে শেখ হাসিনার বিচারকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি প্রতিহত করতে রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অবস্থান নেওয়ার দৃশ্য আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘উত্তরবঙ্গ নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত বছরের ১৪ নভেম্বরে ‘শত শত লাঠি সোটা নিয়ে শিবিরের কর্মীরা আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে’ ক্যাপশনে প্রচারিত একটি ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।

এছাড়াও, সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক করতোয়া’র ইউটিউব চ্যানেলে গত বছরের ১৩ নভেম্বরে ‘স্ট্যা/ম্প হাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে শিবির কর্মীদের অবস্থান’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার হতে দেখা যা, যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা ডেইলি স্টার’ এর ওয়েবসাইটে গত বছরের ১৩ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনার বিচারকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি প্রতিহত করতে রাজধানীর গুলিস্তানে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এসময় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। ব্যানারের নিচে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে লাঠি হাতে অবস্থান নিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, এর আগে আওয়ামী লীগ অনলাইনে গত বছরের ১৩ নভেম্বরে ঢাকায় ‘লকডাউন কর্মসূচি’ পালনের ঘোষণা দেয়।

সুতরাং, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত-শিবিরের লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি দাবিতে গত বছরের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শিবিরের অবস্থানের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: