সম্প্রতি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সদস্য সচিব আখতার হোসেন গ্রেফতার হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, আখতার হোসেনকে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সম্প্রতি এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে গ্রেফতারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রচারিত ভিডিওটিও নতুন নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সালে আবরার ফাহাদ হত্যার তিন বছর পূর্তিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারামারির পর আখতারসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিওকেই সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে Zakaria Ibn Yusuf নামের একজন গণমাধ্যমকর্মীর ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উক্ত ভিডিওর শুরুর ১৩ সেকেন্ডের ফুটেজের সাথে আলোচিত ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। উভয় ভিডিওতেই আখতার হোসেনকে একই পোশাকে একই পুলিশ ভ্যানে দেখা যায়। ভিডিওটির শিরোনামে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রলীগ-ছাত্র অধিকার পরিষদ মুখোমুখি। এরপর ভিপি নুরের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা আটক। থানায় নেয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকেই ছাত্রনেতারা বললেন আবার রাজপথে দেখা হবে।’
London Mirror-লন্ডন মিরর নামের আরেকটি অনলাইন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে একইদিনের আরেকটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে আখতার হোসেনসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের তৎকালীন আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করতে দেখা যায়। উক্ত ভিডিওর শেষাংশেও আখতার হোসেনকে আলোচিত ভিডিওর মত পুলিশ ভ্যানে দেখা যায়।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ বাধা দিতে গেলে সভার আয়োজক ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা থেকে মারামারি বাধে। সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন বলেও জানা যায়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের নামে দুটি মামলা করেছেন ছাত্রলীগের দুই নেতা। যাতে আখতার হোসেনসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের ২২ নেতা-কর্মী ও গণ অধিকার পরিষদের ১ জনকে পুলিশ আটক করে বলে জানা যায়।
সুতরাং, আখতার হোসেনের ২০২২ সালে আটক হওয়ার ভিডিওকে তার সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হওয়ার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Zakaria Ibn Yusuf Facebook Post
- London Mirror Facebook Post
- Prothom Alo Website: ঢাবিতে আবরার ফাহাদ স্মরণসভায় ছাত্র অধিকারের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
- Prothom Alo Website: আবরারের স্মরণসভায় হামলা: শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের ২ মামলা
- Rumor Scanner’s Analysis


