নির্বাচনে জয়ের পর কুমিল্লায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলার এই দাবিটি ভুয়া

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন নিয়ে জয় লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে জয় লাভ পরদিন অর্থাৎ, ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা কুমিল্লা-১১ আসন এলাকায় অবস্থিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি বিএনপির নেতাকর্মী কর্তৃক কুমিল্লা-১১ আসনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের বাড়িতে হামলার কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই ইন্টারনেটে বিদ্যমান রয়েছে। ইন্টারনেটে বিদ্যমান এই পুরোনো ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ৩ জানুয়ারি একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। সেসময় ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, এটি আওয়ামী লীগ নেতাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করতে গেলে সেসময় স্থানীয় জনতার বাঁধা দেওয়ার ঘটনার ভিডিও।
তবে এটি এই ঘটনারই ভিডিও কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওটি কোন ঘটনার তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এটি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে এটি নির্বাচন পরবর্তী কোনো সহিংসতার ভিডিও নয়। এছাড়াও গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোন নির্ভরযোগ্য সূত্রে কুমিল্লা – ১১ আসনে নির্বাচনের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, নির্বাচনের পরদিন কুমিল্লা-১১ আসনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- মুক্তির অগ্নিবীর Facebook Post
- Rumor Scanner’s Analysis

