অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে শেখ হাসিনার ভাষণ দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার 

২০২৪ সালে বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় অডিও কলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইমেইলের মাধ্যমে ভারতসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তবে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। এরই প্রেক্ষিতে “ভারতের ‘দিল্লী’ থেকে সরাসরি জাতির উদ্দেশে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে যা বললেন শেখ হাসিনা” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওটিতে শেখ হাসিনার কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “প্রিয় দেশবাসী, আজকে অত্যন্ত বেদনা-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। এমন কোনো ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করে। এই আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার যথেষ্ট ধৈর্য্য ও সহনশীলতা প্রদর্শোন করেছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো কিছু মহল এই আন্দোলনের সুযোগটা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এর ফলে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে যেসকল ঘটনা ঘটেছে তা খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।”

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে

অনুরূপ দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি অতীতের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে শেখ হাসিনার দেওয়া কোনো বক্তব্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া শেখ হাসিনার ভাষণের ভিডিও।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি সেসময়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া শেখ হাসিনার ভাষণ। তবে, যমুনা টিভির ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওতে শেখ হাসিনার পরিহিত পোশাকের রঙ এর ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়া, দাবিকৃত ভিডিওতে শেখ হাসিনার পেছনে ভারতীয় পতাকা সংবলিত একটি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখা গেলেও যমুনা টিভির আসল ভিডিওতে ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে।

পরবর্তী অনুসন্ধানে সিলেটভিত্তিক গণমাধ্যম ‘সিলেট টুডে ২৪’ এর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে দেশব্যাপী উদ্ভূত সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ১৭ জুলাই জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া শেখ হাসিনার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লিখিত বক্তব্যের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৭ জুলাই শেখ হাসিনার দেওয়া এই ভাষণ আন্দোলনকারীরা প্রত্যাখ্যান করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এর ডাক দেন।

অর্থাৎ, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া শেখ হাসিনার পুরোনো এই ভাষণের ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়াও, সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার অতীতের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে বিশ্বস্ত সূত্রে কোনো প্রকার তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া শেখ হাসিনার পুরোনো ভাষণের ভিডিও সাম্প্রতিক সময়ে অতীতের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য দেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: