গত ২৭ নভেম্বর, পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক (১, ২, ৩) ভুল তথ্যের প্রচার লক্ষ্য করা যায়। এরই প্রেক্ষিতে বিএনপিকে দায়ী করে এক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “গতকাল পাবনায় জামায়াতের সমাবেশে যে সব বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে তাদেরকে ধরতে আমরা বিশেষ ব্যাটালিয়ন গঠন করেছি। বিএনপিকে সতর্ক করতেছি সন্ত্রাসীদের সাথে কোন আঁতাত চলবে না সন্ত্রাসীদের শায়েস্তা করতে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সহ মাঠে কাজ করতেছি।”

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
‘md.hasan25011’ নামক প্রোফাইল থেকে গত ২৯ নভেম্বর ১৫ সেকেন্ড সময়ের দীর্ঘ কনটেন্টটি আপলোডের পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজারবার। কনটেন্ট এনগেজমেন্ট বিশ্লেষণে আরো দেখা যাচ্ছে, ভিডিওতে লাইক রিয়েক্ট পড়েছে সাড়ে ৪ হাজারের অধিক। শেয়ার হয়েছে এক হাজারের কাছাকাছি এবং ভিডিওতে মন্তব্য এসেছে প্রায় আড়াই শতাধিক। এছাড়া, মন্তব্যগুলোতে বক্তব্যটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয় বরং, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে কোনো বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে ভয়েস ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাতেও খানিকটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।
এছাড়া, ১৫ সেকেন্ড সময়ের দীর্ঘ উক্ত ভিডিওটিতে বক্তব্য দেওয়া কথিত পুলিশ কর্মকর্তার সামনে কয়েকটি মাইক্রোফোন দেখা যায়, যার মধ্যে সময় টিভি, এনটিভি এবং চ্যানেল আই-এর বুম ছাড়া বাকি কোনো গণমাধ্যমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নামের সাইনবোর্ডে অর্থপূর্ণ নয় এমন শব্দের ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে রিউমর স্ক্যানার ভিডিওটি ‘হাইভ মোডারেশন’ টুলের ‘Hive Detect AI’ মডেল দিয়ে পরীক্ষা করে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৮ শতাংশ।

এছাড়া, ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ টুলের ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের বিশ্লেষণেও ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ বলে জানানো হয়।
সুতরাং, এআই-তৈরি ভিডিওকে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে পুলিশ কর্মকর্তার আসল বক্তব্য দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Hive Moderation: AI-Generated Content Detection
- DeepFake-o-meter: AI-Generated Content Detection
- Rumor Scanner’s Analysis


