সংসদ অধিবেশনে মির্জা ফখরুল আ.লীগ সরকারের উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য দেননি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদ অধিবেশনে দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার শাসনামলের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশংসাসূচক বক্তব্য দিয়েছেন। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি যে কাজগুলো করেছেন, সেগুলো না বললে আমি মনে করি অবিচার করা হবে।” এরপর ভিডিওতে তাকে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ অনুমোদন, কৃষিঋণ মওকুফ, জমির খাজনা মাফ, মুক্ত অর্থনীতির বিকাশ, দারিদ্র্য বিমোচন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং জলবায়ু ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করতে শোনা যায়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

টিকটকে প্রচারিত উক্ত দাবির পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ অধিবেশনে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। প্রকৃতপক্ষে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। তবে মূল বক্তব্যের শুরুর অংশটি বাদ দিয়ে ভিন্ন দাবি সংযুক্ত করে ভিডিওটি বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, প্রচারিত ভিডিওতে থাকা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ টাইমসের লোগোর সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে গত ১২ মার্চ প্রকাশিত মির্জা ফখরুলের আংশিক বক্তব্যটি খুঁজে পাওয়া যায়, যা প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ ছিল, “খালেদা জিয়ার অবদান সম্পর্কে যা জানালেন বিএনপি মহাসচিব”।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক কালবেলার ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ অধিবেশনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া পূর্ণ বক্তব্যটি পাওয়া যায়। সেখানে ভিডিওর প্রায় ৪৮ সেকেন্ড সময়ে তিনি বলেন, “মাননীয় স্পিকার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে অল্প সময়ে কথা বলা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার।” এরপর তিনি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দক্ষতা ও তার সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ উল্লেখ না করলে তা অবিচার হবে। এ সময় তিনি প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ অনুমোদন, কৃষিঋণ মওকুফ, জমির খাজনা মাফ, মুক্ত অর্থনীতির বিকাশ, দারিদ্র্য বিমোচন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

মূলত তার বক্তব্যের এই নির্দিষ্ট অংশটুকুই কেটে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, সংসদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের খালেদা জিয়া সরকারের আমলের উন্নয়ন কার্যক্রম সংক্রান্ত বক্তব্যকে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন নিয়ে দেওয়া বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

  • Bangladesh Times – Facebook Post
  • Kalbela – Youtube Video
Share: