হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে হামলার শিকারের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশে থাকা ব্যক্তিটি ছাত্রলীগের নেতা নন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১০ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ফের ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ২৭ জানুয়ারি দুপুরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তার পাশে থাকা এক ব্যক্তিকে ছাত্রলীগ নেতা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হচ্ছে।

উক্ত দাবির কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে হামলার শিকারের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশে থাকা ব্যক্তিটি ছাত্রলীগের নেতা নন; তার নাম জাকির মাহমুদ। ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে ফেসবুকে নানা পোস্টের সূত্র ধরে জাকির মাহমুদের ফেসবুক প্রোফাইল শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার। তার ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে ছাত্রলীগের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি রিউমর স্ক্যানার টিম। বরং তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। গত বছরের ২০ মার্চ তিনি নিজের ফেসবুকে ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ অথবা মৃত্যু’ লেখা একটি ব্যানার পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন, “রক্ত লাগলে রক্ত নে, আওয়ামী লীগের কবর দে।”
গত বছরের জুলাইতেও জাকিরকে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে দাবি করে একাধিক পোস্ট ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সে সময় রিউমর স্ক্যানারের পক্ষ থেকে জাকির মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের কোনো সদস্য নন। তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হয়েছিলেন এবং প্রমাণ হিসেবে আহত অবস্থার কিছু ছবিও সরবরাহ করেন।
সুতরাং, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে হামলার শিকার হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশে থাকা ব্যক্তিটি ছাত্রলীগের নেতা শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s analysis.
- Zakir Mahmud: Facebook Profile

