তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ড. ইউনূসকে জড়িয়ে প্রথম আলোর সংবাদ এডিট করে পিটার হাসের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

সম্প্রতি, “অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পাচ্ছেন ড. ইউনূস: পিটার হাস” শীর্ষক দাবিতে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনের আদলে তৈরি একটি স্ক্রিনশট ফেসবুক এবং শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটকে প্রচার করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বক্তব্য দাবিতে অক্টোবরে ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পাওয়ার কথা প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন, এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

টিকটকে প্রচারিত এমন কিছু ভিডিও দেখুন, এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগামী অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস কোনো মন্তব্য করেননি এবং প্রথম আলোতেও এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে প্রথম আলোর ওয়েব পেজের স্ক্রিনশট এডিট করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নামে ভুয়া বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটের একটি নিউজ এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত নিউজের স্ক্রিনশট পর্যবেক্ষণ করে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে রিউমর স্ক্যানার। এতে দেখা যায় প্রথম আলোর ওয়েবসাইটের শিরোনামের ফন্টের সাথে প্রচারিত ঐ স্ক্রিনশটের ফন্ট এবং লেখার এলাইনমেন্টের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উক্ত দাবির স্ক্রিনশটে যে ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে প্রথম আলো সে ধরনের কোনো ফন্ট ব্যবহার করে না। পাশাপশি ঠিক নেই ক্রেডিট লাইনের ফন্ট এবং প্রচারিত সেই স্ক্রিনশটে নেই প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সূচিও।

প্রথম আলোর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ, টুইটার(X) এবং ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করেও প্রথম আলোতে প্রকাশিত এ ধরনের কোনো প্রতিবেদনের অস্ত্বিত্ব পাওয়া যায়নি। গুগলে সার্চ করার মাধ্যমেও উক্ত শিরোনামে প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদন আসেনি।

পরবর্তীতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বাংলাদেশের দ্বাদশ নির্বাচন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এমন কোনো বক্তব্য দিয়েছে কি না তা অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম। এতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পাওয়া শীর্ষক তার কোনো মন্তব্য কোনো মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের নির্বাচন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তার একটি বক্তব্য ঢাকা ট্রিবিউনে গত ৩ আগস্ট “রাষ্ট্রদূত: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মন্তব্য নেই” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। যেখানে পিটার হাস বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। তবে জনগণ যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার সরকার বেছে নিতে পারে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মন্তব্য নেই।.. এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোই স্বীয় অবস্থান নির্ধারণ করবে। আমরা শুধু চাই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অসহিংস নির্বাচন।”

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের একই বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায় বিডিনিউজ২৪ একইদিনে ‘নির্বাচন কীভাবে সেটা রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়: পিটার হাস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও।

এভাবে রিউমর স্ক্যানার টিম তাদের অনুসন্ধানে মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এমন কোনো মন্তব্যে করেননি এবং জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোও এমন কোনো সংবাদ তাদের ওয়েবসাটে প্রকাশ করেনি বলে নিশ্চিত হয়।

এদিকে ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পাচ্ছেন ড. ইউনুস: পিটার হাস’ শীর্ষক দাবিটি প্রথম আলোর ওয়েব প্রতিবেদনের আদলে তাদের নিউজ হিসেবে প্রচারিত হলে প্রথম আলো তাদের একটি ফেসবুক পোস্টে সেটিকে মিথ্যা প্রচারণা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ‘প্রথম আলোর নামে ছড়ানো এই স্ক্রিনশটটি নকল, আমাদের তৈরি নয়। বিভ্রান্তি এড়াতে আমাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও অনলাইনের সঙ্গে থাকুন।’

মূলত, প্রথম আলোর ওয়েব প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট এডিট করে ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পাচ্ছেন ড. ইউনুস -পিটার হাস’ শীর্ষক শিরোনাম বসিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নামে ভুয়া এ বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পাচ্ছেন ডক্টর ইউনুস শীর্ষক বক্তব্য দেওয়ার দাবি এবং তা প্রথম আলোতে উক্ত শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের দাবিটি বানোয়াট এবং স্ক্রিনশটটি এডিটেড।

তথ্যসূত্র

Share: