২০ জেলায় ১০ নম্বর সংকেত—আরটিভির নামে সম্পাদিত কার্ড

সম্প্রতি, আগামীকাল ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত রয়েছে যে ২০ জেলায় দাবিতে আরটিভির ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘কাল ১০ নম্বর বিপদ সংকেত যে ২০ টি জেলায়।’ 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘কাল ১০ নম্বর বিপদ সংকেত যে ২০ টি জেলায়’ শিরোনামে আরটিভি কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আরটিভির ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে আরটিভির লোগো এবং এটি প্রকাশের দিন হিসেবে ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে আরটিভির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রচারিত সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবি সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও আরটিভির ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, আরটিভির ফেসবুক পেজে গত ২৮ এপ্রিল ‘সন্ধ্যার মধ্যে সাত জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির মিল রয়েছে। তবে আরটিভির মূল ফটোকার্ডটিতে ‘সন্ধ্যার মধ্যে সাত জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘কাল ১০ নম্বর বিপদ সংকেত যে ২০ টি জেলায়’ শীর্ষক বাক্য লেখা রয়েছে। 

অর্থাৎ, আরটিভির এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

পাশাপাশি, আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮, ২৯ এবং ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এর চেয়ে উচ্চতর কোনো সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়নি।

সুতরাং, ‘কাল ১০ নম্বর বিপদ সংকেত যে ২০ টি জেলায়’ শিরোনামে আরটিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত। 

তথ্যসূত্র

Share: