অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের পুরোনো ছবি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার

সম্প্রতি, প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে কয়েকজন ব্যক্তির ছবি অন্তর্বর্তীকালীন সরকাররের আমলের অর্থাৎ সাম্প্রতিক ঘটনার দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টেচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকাররের আমলের অর্থাৎ সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয় বরং, ২০১৮ সালের পুরোনো ভিন্ন ঘটনার ছবিগুলো আলোচিত দাবি প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ছবিগুলো রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘A K M Wahiduzzaman’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক পোস্টের মাধ্যমে প্রচারিত কিছু ছবির সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, ‘ছবিগুলো অনেক দিন যাবত সেভ করে রেখেছি। আমার বন্ধু আর এই পৃথিবীতে নেই। সহৃদয় কেউ কি হেল্প করতে পারবেন? এই ছবি থেকে অস্ত্রধারী লোকগুলোকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করুন প্লিজ। সেই সাথে এদের পোস্টিং এখন কোথায়, সেটাও উল্লেখ করুন। যদি প্রকাশ্যে জানাতে ভয় পান, তাহলে ইনবক্সে জানাতে পারেন।’

পোস্টের মন্তব্যের ঘর পর্বেক্ষণ করে দেখা যায়, ‘jitu’ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘স্যার ২০১৮ সালে এই ঘটনাটার আমি স্বচক্ষে দেখা এবং সাক্ষী ছিলাম ঐদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি না হতো আমিও গ্রেফতার হইতাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার (ম্যাডামের) মুক্তির দাবিতে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন করছিলাম হঠাৎ করে আতঙ্কিত পুলিশ এসে যাকে তাকে এরেস্ট করা শুরু করে দিয়েছে । আর তৎকালীন এরেস্ট মানে পাশবিক নির্যাতন রিমান্ডের নামে। মহান আল্লাহ পাক বাবু ভাইকে জান্নাতবাসী করুক। এদেরকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ‘Shafiqur Rahman Mithu’ নামের এক ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০১৮ সালের ৬ মার্চ একটি পোস্টের ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলোর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, পোস্টটির এডিট হিস্টোরি থেকে দেখা যায় একই বছরের ৮ মার্চ পোস্টটি একবার সম্পাদনা করা হয়। সম্পাদনা করে নতুন করে ৭টি ছবি সংযুক্ত করা হয়। এই ৭টি ছবির ৬টির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলোর সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়াও, ‘DitioAlo দ্বিতীয়আলো’ নামের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ আপলোডকৃত একটি ছবি পাওয়া যায়, যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত একটি ছবির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, এটা নিশ্চিত যে ছবিগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকাররের আমলের বা সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়।

আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য গুগলে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে প্রথম আলো এর ওয়েবসাটে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর আপডেটকৃত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের একটি ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত একটি ছবির সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

সুতরাং, ২০১৮ সালের অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের ছবি সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়ার বা সংঘর্ষের ছবি দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: