কর্দমাক্ত পানিতে মা-শিশুর আলিঙ্গনরতছবিগুলো বাংলাদেশ নয়, ইয়েমেনের 

গেল আগস্ট মাসে অতি বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে দেশের বেশ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হয়েছে। ভয়াবহ এই বন্যায় অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। সরকারি হিসেবেই এখন পর্যন্ত ৭১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর করুণ চিত্র তুলে ধরে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুইটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি দুইটিতে একটি ধ্বংসস্তূপে কর্দমাক্ত পানিতে এক মা তার শিশুকে আলিঙ্গন করে বসে থাকতে দেখা যায়।

ছবিগুলোতে সরাসরি বাংলাদেশের দাবি করা না হলেও অনেকেই বাংলাদেশের ভেবে পোস্ট, শেয়ার এবং মন্তব্য করছেন।

কর্দমাক্ত পানিতে মা-শিশুর

ছবিগুলো যুক্ত করে বাংলাদেশে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্দমাক্ত পানিতে শিশুকে মায়ের আলিঙ্গন করে বসে থাকার ছবিগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হওয়া বন্যার নয় বরং, মর্মান্তিক এই ছবিগুলো ইয়েমেনের।

অনুসন্ধানের শুরুতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম Al Arabiya এর ওয়েবসাইটে গত ২৯ আগস্ট “Indescribable painful images.. A Yemeni woman hugs her child under the rubble of the flood” (ইংরেজি অনুদিত) শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদনে থাকা ছবির সাথে আলোচিত ছবিগুলোর মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মর্মান্তিক এই ছবিগুলো উত্তর ইয়েমেনের আল মাহউইত গভর্নরেটের মালহান জেলার। সম্প্রতি বন্যার কবলে পড়ে দেশটি। বন্যার কারণে ধ্বংসস্তূতে আটকে মারা যান আলোচিত ছবিতে থাকা নারী ও তাঁর সন্তান।

এছাড়া, একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে Al Sadara News. পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যকর্মী Ahmed Hassan এর করা একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। 

উক্ত পোস্টে আলোচিত ছবিগুলোত থাকা নিহতদের উদ্ধারের দৃশ্য দেখা যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, এবছর ইয়েমেনে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যে অনেক বন্যা এবং প্রবাহ ঘটেছে। যার ফলে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

অর্থাৎ, কর্দমাক্ত পানিতে মা-শিশুর মর্মান্তিক এই ছবিগুলো ইয়েমেনের।

সুতরাং, ইয়েমেনে বন্যায় ধ্বংসস্তূপের কর্দমাক্ত পানিতে মা-শিশুর আলিঙ্গনরত ছবিকে বাংলাদেশের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: