জামায়াত জোট করলেও দলীয় প্রতীক ব্যতীত নির্বাচন করেনি শীর্ষক পিনাকী ভট্টাচার্যের দাবিটি মিথ্যা

সম্প্রতি, প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য বিএনপির নির্বাচনী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একটি ভিডিও প্রচার করেন। ভিডিওতে বিএনপি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য কতটি সিট পেতে পারে সেটি বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট করলেও কখনও দলটির নেতাকর্মীরা নিজের দলের প্রতীক ব্যতীত ভিন্ন কোনো প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।

ইউটিউবে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট করলেও দলটির নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ব্যতীত ভিন্ন কোনো প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়নি দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন নেতা নির্বাচন করেন।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম যুগান্তর এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর জামায়াতের ২৫ নেতার প্রার্থিতা বহাল শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন নেতা নির্বাচন করেন। এদের মধ্যে ২২ জন ঐক্যফ্রন্ট থেকে এবং স্বতন্ত্র থেকে ৩ জন প্রার্থী হন। জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সভাপতি ডা. শফিকুর রহমান সেসময় ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন বলেও প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়। 

আরেক মূলধারার গণমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়। 

পাশাপাশি ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে ২০১৮ সালে তার প্রোফাইলে ধানের শীষ প্রতীকে তার নির্বাচনী প্রচারণামূলক বেশ কয়েকটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

অর্থাৎ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় পিনাকী ভট্টাচার্যের দাবিটি সঠিক নয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক ব্যতীতও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

সুতরাং, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট করলেও কখনও দলটির নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক ব্যতীত ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি বলে পিনাকী ভট্টাচার্যের করা দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: