প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বন্ধের সিদ্ধান্তকে দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের দাবি হিসেবে প্রচার

সম্প্রতি ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের’ শিরোনামে ইলেকট্রনিক টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের একটি ফটোকার্ডের স্ক্রিনশট প্রচার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাংলা ভিশনের প্রকাশিত একটি ফটোকার্ডের শিরোনামে অস্পষ্টতা থাকায়বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলা ভিশনের ওয়েবসাইটে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আপাতত তিনি কোনো ব্যক্তিগত ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করবেন না এবং তার পূর্বের অ্যাকাউন্টগুলো ইতোমধ্যে ডিঅ্যাক্টিভেট করা হয়েছে। বর্তমানে তার কোনো সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নেই। তার নাম ও পদবি ব্যবহার করে কেউ ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব ছড়ালে এর দায়ভার তিনি বহন করবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ বিষয়ে আরও একাধিক গণমাধ্যম (,,) সংবাদ প্রকাশ করেছে।

বাংলা ভিশনের ফটোকার্ডকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার পর গণমাধ্যমটি শিরোনাম সংশোধন করে স্পষ্ট শিরোনামে নতুন ফটোকার্ড প্রকাশ করে।

এছাড়া দেশের সকল নাগরিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তকে দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: