পহেলা বৈশাখে মোহাম্মদপুরে গর্ভবতী নারীকে প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতন দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার

গতকাল ১৪ এপ্রিল ছিল ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। বাংলা নববর্ষের প্রথম এই দিনকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। তবে এদিনেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গর্ভবতী এক নারীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখা যায়। প্রচারিত সিসিটিভি ফুটেজটিতে একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ভুক্তভুগি নারীকে যৌন নির্যাতন করতে দেখা যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে গর্ভবতী নারীকে যৌন নির্যাচনের দাবিটি সঠিক নয়। এছাড়াও উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে গর্ভবতী নারীকে যৌন নির্যাচনের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে মোহাম্মদপুরে ২০১৮ সালে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেলেও গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পহেলা বৈশাখের দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কোনো গর্ভবতী নারীকে প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে UPUK NEWS নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে একই ভিডিও সংবলিত একটি পোস্টের সন্ধান পাওয়া যায়। পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়, এটি ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরের মালভিয়া নগর এলাকার ঘটনা।

প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এর ওয়েবসাইটে একই ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ঘটনাটি গত ২৫ মার্চ ঘটে। এতে ভুক্তভুগি থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় পুলিশের অবহেলার জন্যে দুজন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়। অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, প্রকাশ্যে নারীকে যৌন নির্যাতনের এই ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়।

সুতরাং, ভারতের ভিডিওকে পহেলা বৈশাখে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গর্ভবতী নারীকে প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতনের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: