আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের আগুন দেওয়ার দাবিতে পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেলের বাড়িতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরই প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের আগুন দেওয়ার ভিডিও দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে এক্সে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের আগুন দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। বরং, ২০১৬ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আঁখের খামারের জমিতে অবস্থিত সাঁওতালদের বসতিতে পুলিশের আগুন দেওয়ার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আলোচিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে এতে ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম সময় টেলিভিশন-এর লোগো দেখতে পায়। পরবর্তীতে সময় টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর পুলিশের দেয়া আগুনে পুড়ে ছাই সাঁওতালপল্লী শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটির সাথে উক্ত ভিডিওর মিল রয়েছে।

এছাড়াও ভিডিওটির শিরোনাম থেকে জানা যায়, ভিডিওটি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অবস্থিত রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় সাঁওতালদের বসতিতে পুলিশ সদস্যদের আগুন দেওয়ার ঘটনার।

পরবর্তী অনুসন্ধানে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সাঁওতালদের ঘরবাড়িতে প্রথম আগুন দিয়েছিল পুলিশ! (ভিডিও) শীর্ষক শিরোনামে একই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আঁখ কাটাকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে সেবছরের ৬ নভেম্বর পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল মারা যান এবং আরও চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়াও সাঁওতালদের ছোড়া তীরে আহত হন ৯ পুলিশ। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের বসতি উচ্ছেদ করে। এ সময় তাদের বসত-ঘরগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

সুতরাং, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বসতিতে পুলিশের আগুন দেওয়ার পুরোনো ভিডিওকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিও দাবিতে ইন্টারেনেটে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: