দুই কলেজের সংঘর্ষে সাংবাদিককে মারধরের পুরোনো ছবি এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে ভিডিও বানিয়ে প্রচার

সম্প্রতি “শিক্ষার্থীদের মারামারির ছবি তোলায় সাংবাদিক পেটাল পুলিশ” শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিম এর অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয় বরং, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৩ সালে রাজধানীর ধানমন্ডি কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সংঘর্ষের সময়ে পুলিশ কর্তৃক এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার ছবি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ভিডিও তৈরি করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ভিডিওটি আসল হওয়ার সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে এতে বেশকিছু অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। ভিডিওর শুরুতে মারধরের শিকার ব্যক্তির পরনে শার্ট থাকলেও কিছু অংশ পরে তা পরিবর্তিত হয়ে টি-শার্টে রূপান্তরিত হতে দেখা যায়। পাশাপাশি, উপস্থিত লোকদের অস্বাভাবিক নড়াচড়াও লক্ষ্য করা যায়।
প্রচারিত ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না তা যাচাই করতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ডিপফেক ও মিটার দিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।
এছাড়া, ডিপফেক ও মিটারের ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের বিশ্লেষণেও প্রচারিত ভিডিওটি এআই নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ বলে ফলাফল আসে।
পরবর্তীতে, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে দেশিয় একাধিক (১, ২) সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনগুলোতে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল রয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোর বিস্তারিত অংশ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে রাজধানীর ধানমন্ডি কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সংঘর্ষের সময়ে পুলিশ কর্তৃক এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটে এবং প্রচারিত ছবিটি মূলত এই ঘটনারই।
সুতরাং, “শিক্ষার্থীদের মারামারির ছবি তোলায় সাংবাদিক পেটাল পুলিশ” শিরোনামে প্রচারিত ভিডিওটি এআই নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- DeepFake-O-Meter
- Hive Detect AI
- The Daily Campus: শিক্ষার্থীদের মারামারির ছবি তোলায় সাংবাদিক পেটাল পুলিশ
- Dhaka Mail: শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ: ছবি তোলায় পুলিশের মারধরের শিকার সাংবাদিক
- Rumor Scanner’s Analysis

