যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত বিকলকে তেল না থাকায় পুলিশের গাড়ি বিকল হিসেবে প্রচার

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ না আসায় দেশে তেল সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালালেও কোথাও নিশ্চয়তা মিলছে, কোথাও মিলছে না। এরই প্রেক্ষিতে তেল না থাকায় পুলিশের গাড়ি বিকল হওয়ায় তা ঠেলে নেওয়া হচ্ছে দাবিতে একটি ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয় গতকাল।

উক্ত দাবির ভিডিও গণমাধ্যমে দেখুন এশিয়া পোস্ট, কালবেলা, ফেস দ্য পিপল, খবরের কাগজ, বিডি২৪রিপোর্ট।
প্রবাসী একটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যও ভিডিওটি তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। দেখুন এখানে।
ওয়াজ-মাহফিলে দাবিটিকে সত্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তেল না থাকায় বিকল নয়, পুলিশের এই গাড়িটির যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বিকল হলে এটিকে ঢেলে মধ্যবাড্ডার একটি ওয়ার্কশপে নিয় যাওয়া হয়। সেখানেই গাড়িটি সারাইয়ের কাজ চলছে এখন।
এ বিষয়ে আলোচিত ভিডিওতে উক্ত স্থানের নাম ঢাকার মধ্য বাড্ডা উল্লেখ থাকার সূত্রে এবং উক্ত স্থানের ফুটেজ বিশ্লেষণ করার পর গুগল ম্যাপে বিভিন্ন কিওয়ার্ডে সার্চ করে এটি ঢাকার প্রগতি সরণীর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ক্যাম্পাসের সামনের ঘটনা বলে নিশ্চিত হয় রিউমর স্ক্যানার।

স্থান নিশ্চিত হওয়ার মধ্যেই মূল ধারার গণমাধ্যম চ্যানেল ওয়ানের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও নজরে আসে রিউমর স্ক্যানারের। সাংবাদিক অভিজিত শান্তর এই প্রতিবেদনে তিনি সরেজমিনে গিয়ে যাচাই করে জানান, তেল শেষ হওয়া জনিত কোনো কারণে নয়, পুলিশের গাড়িটি বিকল হয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটি জনিত কারণে। তিনি প্রগতি সরণীরই একটি গ্যারেজে গাড়িটির সন্ধান পান। ভিডিওতে দেখানো গাড়িটির নাম্বার প্লেটের সাথে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা গাড়ির নাম্বার প্লেটের (ঢাকা মেট্রো ঠ-১৪২৭৫১) মিল পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার।

অভিজিত শান্ত রিউমর স্ক্যানারকে জানান, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের যে স্থানে গাড়িটিকে ঢেলে নিয়ে যেতে দেখা যায় তার সামনেই অল্প দূরত্বে ‘গণি রোড’ নামের এক স্থানে গ্যারেজে পাওয়া যায় গাড়িটি। এই তথ্যের সূত্র ধরে আবারও গুগল ম্যাপের সহায়তা নিয়ে ‘এন এস কার সলিউশন’ নামের আলোচিত গ্যারেজটির খোঁজ পায় রিউমর স্ক্যানার৷

অর্থাৎ, এটি কোনো পাম্প নয়, মূলত একটি গাড়ি সারাইয়ের গ্যারেজ ও কার ওয়াসের স্থান। দাবি অনুযায়ী, পুলিশের গাড়িটির যদি তেলই শেষ হতো তাহলে তা পাম্পেই নিয়ে যাওয়া হতো, গ্যারেজে নয়।
চ্যানেল ওয়ানের ভিডিওতে গ্যারেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য রয়েছে। সেখান থেকে জানা যায়, তেল আছে গাড়িতে। গাড়িটির ইঞ্জিনে সমস্যা ছিল। এজন্য ঢেলে নিয়ে গাড়িটিকে তাদের ওয়ার্কশপে নিয়ো আসা হয়। এখন ইঞ্জিন খুলে তারা কাজ করছেন।
সুতরাং, যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত বিকলকে তেল না থাকায় পুলিশের গাড়ি বিকল হিসেবে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Channel One: Facebook Video

